প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১৯ (শুক্রবার)
রমহতপুর বাইপাসে সড়কে দু*র্ঘ*ট*নায় প্রাণ গেল একই পরিবারের ৪ জনের

শহরের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় নারী-শিশুসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনই একই পরিবারের।
 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ময়মনসিংহের রমহতপুর বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ময়মনসিংহ বাইপাস সড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে মুখোমুখি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার ভেতরে থাকা যাত্রীদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাসটি সরিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বের করা হয়। পরে সিএনজির ভেতর থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
 

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সিএনজির ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি এমনভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় যে ভেতরে থাকা যাত্রীদের বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
 

প্রত্যক্ষদর্শী নাজিম উদ্দীন বলেন, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন বাসটি ঠেলে সরিয়ে সিএনজিটি বের করেন। পরে সিএনজির ভেতর থেকে নিহতদের বের করে আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই সড়কে দিন দিন যানবাহনের চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা মরদেহগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
 

ওসি জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি জব্দ করে রাখা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তারা বাস রেখে চলে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৮