দীর্ঘদিনের পানির সংকট ও বাসিন্দাদের আন্দোলনের পর অবশেষে সিলেট নগরীর জল্লারপাড় এলাকায় নতুন পানির সংযোগ লাইনের কাজ শুরু হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরলেও কাজের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মির্জাজাঙ্গাল এলাকা থেকে পানির লাইন টেনে জল্লারপাড়ের প্রবেশমুখ পর্যন্ত নেওয়ার কাজ চলছে। তবে কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছিলেন জল্লারপাড়ের বাসিন্দারা। বারবার অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় গত ৩ সেপ্টেম্বর বালতি, কলস ও মগ নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। আন্দোলনের পর সিসিক কর্তৃপক্ষ এলাকায় পানির নতুন লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।
সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও স্থানীয় বাসিন্দা এহছানুল হক তাহের বলেন, ‘পানির আন্দোলনের সাফল্য আমাদের অধিকার আদায়ের ফসল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যৌক্তিক আন্দোলনে আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকব।’
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রায় পাঁচ বছর আগে পানির লাইনের কাজ মির্জাজাঙ্গাল পর্যন্ত এসে আটকে যায়। আন্দোলনের পর আবার কাজ শুরু হলেও ধীরগতির কারণে তাঁদের দুর্ভোগ পুরোপুরি কমছে না।’
কর্মীরাও নিয়মিত কাজ করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিসিকের পানি শাখা জানায়, আন্দোলনের আগে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জল্লারপাড় এলাকা পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেন।
সিসিকের পানি শাখা জানিয়েছে, তাঁর নির্দেশনার পরই মাঠপর্যায়ে পানির লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম বলেন, “জল্লারপাড়বাসীর পানির সংকট দূর করতে আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে আমি মির্জাজাঙ্গাল পয়েন্ট-সংলগ্ন এলাকায় একটি পানির প্রকল্প করেছিলাম। পরে ৫ আগস্টের পর আমরা সরে যাওয়ায় সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। সব মিলিয়ে যারা পানির জন্য আন্দোলন করছেন, পরে মামলা খেয়েছেন—আমি জনপ্রতিনিধি থাকতে এটা হতে দিতাম না।”
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে লাইন হচ্ছে, সেটি নিয়ে জল্লারপাড়ের মানুষ আমার কাছে আসছেন। আমিও আমার সাধ্যের মধ্যে সেটি সমাধানের জন্য কাজ করছি।’
উল্লেখ্য, ৩ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের পর নগর ভবনে ভাঙচুরের অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করে সিটি করপোরেশন।
মামলায় জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা মেহেদী, মিরাজ, তাহমিদ, তাহের, জুয়েল, রুহান ও মারুফকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর প্রায় ১০ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন চা বিক্রেতা তাহের, রিকশাচালক জুয়েল এবং কর্মজীবী জুয়েল। তাঁরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।
তবে এহছানুল হক তাহের ও বাবর বকস হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, পানির লাইন স্থাপনের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এতে জল্লারপাড়ের দীর্ঘদিনের পানির সংকট ও ভোগান্তির স্থায়ী অবসান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.