প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০০ (বুধবার)
‘ম*ব’ সৃষ্টি করে জো*র*পূর্বক উপাচার্যের পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার এবং ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইনকে মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে।
 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। এ সময় তারা উপাচার্যকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান।
 

একপর্যায়ে উপাচার্য ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা পদত্যাগপত্রে তাদের স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় উপাচার্যের কার্যালয় থেকে একটি কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন বলেন, সকাল ১০টা থেকে উপাচার্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে জোর করে কক্ষে প্রবেশ করে উপাচার্যকে গালিগালাজ করতে থাকে। এরপর আগে থেকে প্রস্তুত করা পদত্যাগপত্রে তার স্বাক্ষর নেয়।
 

তিনি আরও বলেন, এরপর আমাকেও ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। আমি এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর করে।

নাজমুল হোসাইনের দাবি, পুরো ঘটনাটি আকস্মিকভাবে ঘটেনি; বরং আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে হামলাকারীদের পরিচয় ও তাদের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৯