প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৪ (শুক্রবার)
কাঁচি শাণ দিয়ে জীবন চলে জগদীশের

প্রায় ৩০ বছর যাবৎ অন্যের জীবিকার মাধ্যম কাঁচি শাণ দিয়ে জীবন চলে জগদীশের। তবে- শাণ মেশিনের চাকা ঘুরলেই কেবল তার জীবনের চাকা ঘুরে।
 

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মনবাজার ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা গণেশ লোহার এর পুত্র জগদীশ লোহার (৫০)।
 

সপ্তাহে ৫ দিন নিজ বাসায় শাণ দেয়ার কাজ করেন। রবিবার রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার এবং বৃহস্পতিবার জুড়ী উপজেলার কামিনীগঞ্জ বাজারে কাজ করেন।
 

আলাপকালে ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক জগদীশ জানান- দাদা ও বাবার পেশা ছিল কাঁচি শাণ দেয়া। তাদের পথধরে নিজেও এ পেশায় আসেন। শাণ পেশা কামার পেশার একটি অংশ। এক সময় কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় অনেকে এ পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। তখন খুব বেশী কাজ হতো, ভালো উপার্জন হতো। এখন আধুনিকতার যুগে চুল কাটার বৈদ্যুতিক মেশিন সহজলভ্য হওয়ায় কাঁচির কাজ নেই বললেই চলে। সেলুনে এখন কাঁচি চলেই না। এমনকি সবার হাতে হাতে বিদেশী মেশিন চলে আশায় সেলুনের কাজও অনেকটা কমে গেছে। যার ফলে অর্থ উপার্জন খুব একটা নেই। যে কারণে সকলেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। একমাত্র তিনি এ পেশায় পেটে-ভাতে রয়ে গেলেও তার ছেলেকে এ পেশায় আনবেন না। এ কাজে ভাত জুটবে না। তাছাড়া এ পেশায় কোনো সম্মানও নেই। শত ভালো কাজ করে দিলেও মানুষের মন মিলে না।
 

তিনি বলেন, “একটি কাঁচি কাজ করলে একশ বা দুইশ টাকা পাওয়া যায়। ঈদ ও পুজার মৌসুমে দিনে হাজার-বারোশত টাকা রুজি হয়। বাকী বছরে কোনো দিন ৪/৫ শত টাকা রুজি হয়, কোনো দিন রুজি হয় না। রুজি হোক বা না হোক শাণ মেশিন চালাতে একজন সাহায্যকারী দরকার, কাজ না হলেও তাকে রুজের মূল্য দিতে হয়। কাজের মৌসুমে ৫ শত টাকা দেই, বাকী সময় ২/৩ শত টাকা দেই।”

জানতে চাইলে তিনি জানান, শাণ মেশিন কাটের তৈরি। ৩১ বছর আগের তৈরি মেশিন এখনও চলছে। তবে- ২ বছর পরপর পাথর ও বেয়ারিং পরিবর্তন করতে হয়। কাটের তৈরি হাতে টানা মেশিনটি দুই দিক থেকে কাজ করে আর মোটর চালিত বৈদ্যুতিক মেশিন একদিকে কাজ করে বিধায় কাজের ফিনিশিং ভালো হয় না।
 

দুঃখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও শ্রেণি- পেশার মানুষ সরকার থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পেয়ে থাকলেও শাণ কামার পেশায় জড়িত লোকেরা সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাঝে মধ্যে কিছু চাল দিয়ে সহযোগিতা করেন।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/মঞ্জুরে/এসডি-০২