ছবি: সংগৃহিত
সিলেট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি লিটন আহমদের এক ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সিলেটের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে জেলা যুবদলে তোলপাড় চলছে।
‘রাজনীতির ময়দানে ‘পছন্দের লোক’ বনাম ‘যোগ্যতার বলি’- শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসকে সমর্থন করে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের বাইরেও চলছে তুমুল আলোচনা।
নিচের তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল:
রাজনীতির ময়দানে ‘পছন্দের লোক’ বনাম ‘যোগ্যতার বলি’
দলের জন্য লড়াই করেছেন, ঘাম ঝরিয়েছেন, সহস্র কষ্ট সহ্য করেছেন। রাজপথের প্রতিটি সংগ্রামে আপনি ছিলেন প্রথম সারিতে। মেধা ও ত্যাগে আপনি ছিলেন শতভাগ যোগ্য, দলের একনিষ্ঠ ও খাঁটি রাজনৈতিক কর্মী।
অথবা, শেষ বিচারে আপনার সব যোগ্যতা এক মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল কেবল একটি কারণে—আপনি বিশেষ কোনো ‘ভাইয়ের লোক’ ছিলেন না, ছিলেন শুধুই ‘দলের লোক’। পদ বণ্টনের সময় ঠান্ডা মাথায় বলে দেওয়া হলো, "তুমি তো ভাইয়ের লোক নও, তাই কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া গেল না।"
এই চরম অবিচারের মুখে আত্মসম্মানবোধ আর কোনো আকুতি বা অনুনয় করতে দেয়নি। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে প্রতিউত্তরে শুধু স্পষ্ট করে বলাই যথেষ্ট ছিল:
"আপনি বড্ড নীতিহীন, উন্মাদ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন!"
কথা শেষ। ফোনের সংযোগও বিচ্ছিন্ন!
রাজনীতিতে পদ-পদবি সাময়িক হতে পারে, কিন্তু নীতির কাছে আপস না করার আত্মমর্যাদা আর স্পষ্টবাদিতা সবসময় অমর। ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করে সুবিধাবাদীদের নিয়ে গড়া প্রাসাদ এক দিন না এক দিন ধসে পড়বেই।
লিটনের এই স্ট্যাটাসের সমর্থনে কমেন্ট পড়েছে প্রচুর। অনেকের মন্তব্য বড় এবং এতে দলের জন্য তার ত্যাগের কথা উঠে এসেছে।
তবে ফয়েজ উল কয়েস নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছেন নেতাদের প্রতি খেদ ঝেড়ে। তার মন্তব্য, ‘কর্মীদের মধ্যে মূলত গ্রুপিং তৈরি করে নেতারা’।
মো. শাহজাহান নামের একজন ব্যবহারকারীর মন্তব্য: ‘পদ না পাওয়া মানেই পথ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আপনার ধৈর্য এবং ত্যাগ আজ হোক কিংবা কাল—মূল্যায়িত হবেই। শুধু এই কঠিন সময়ে নিজের নীতিতে অবিচল থেকে ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে হবে। ইতিহাস কখনো ত্যাগীদের ভুলে যায় না।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে-১৩
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.