ছবি : এ আই দিয়ে তৈরি প্রতীকী
সিলেট মহানগরীর কলোনিগুলো হয়ে ওঠেছে অপরাধের ভয়ংকর আখড়া। বস্তিকেন্দ্রিক গড়ে ওঠেছে কিশোরগ্যাং। চুরি, ছিনতাই, মাদকসেবন ও কারবার এবং জুয়ার নিরাপদ আস্তানাও এসব কলোনি বা বস্তি। সম্প্রতি এসব বস্তির শিশু-কিশোরদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। সবমিলিয়ে পরিপাটি, শান্তিপূর্ণ সিলেট নগরের ‘বিষফোড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বস্তিকেন্দ্রিক অপরাধজগত।
পুলিশ বলছে, এসব অপরাধ নেটওয়ার্ক ভাঙতে তারা বিশেষ মিশনে নেমেছে। এর দৃশ্যমান সুফল নগরবাসী শিগগির দেখতে পাবেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) তথ্য মতে, মহানগরীতে কলোনি বা বস্তির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪শ। এসব বস্তিতে বসবাসকারী জনসংখ্যা প্রায় সোয়া লাখ। সিসিকের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবুল ফজল খোকন জানান, সিটি করপোরেশন বস্তিগুলোতে স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে। নিরাপত্তা কিংবা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা পর্যবেক্ষণ নিয়ে কোন কার্যক্রম নেই সিসিকের।
নগরঘুরে দেখা গেছে, সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বস্তিকেন্দ্রিক কিশোরগ্যাং গড়ে ওঠেছে। এর মধ্যে মাছিমপুর, ছড়ারপাড়, মেন্দিবাগ, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, আম্বরখানা, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, সুবিধবাজার, আখালিয়া, পাঠানটুলা, রিকাবিবাজার, ওসমানী হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, কানিশাইল, শামীমাবাদ, মদিনা মার্কেট, পীরমহল্লা, শাহীঈদগাহ, চারাদিঘীরপাড়, ধোপাদিঘীরপাড়, কুশিঘাট, বাদামবাগিচা, মজুমদারী, চৌকিদেখি, উপশহর, তেররতন, সাদারপাড়া, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, তোপখানা, কাজিরবাজার, দাঁড়িয়াপাড়া, মির্জাজাঙ্গাল, লামাবাজার, কুয়ারপাড়, তালতলা, নয়াসড়ক, টিবি গেইট, বালুচর, হাউজিং এস্টেট ও কদমতলী অন্যতম। চুরি, ছিনতাই, মাদক, মারামারি ও খুনোখুনিতে এসব বস্তির কিশোরগ্যাংরা জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট মহানগরীর বেশিরভাগ বস্তিতে মাদক কেনাবেচা হয়। কোন কোন বস্তিতে আসর বসিয়ে চলে মাদকসেবন ও জুয়া খেলা। মাদকসেবনের পাশাপাশি মাদক বিক্রিও হয় বস্তিতে। সিলেট নগরের বস্তিকেন্দ্রিক মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সবচেয়ে বড় স্পট হচ্ছে কাষ্টঘর ও দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলার সুইপার কলোনি। বিভিন্ন সময় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এসব বস্তি থেকে মাদকসেবী ও কারবারিকে আটক করে। মাদক ও জুয়া ছাড়া বস্তিগুলো ঘিরে গড়ে ওঠেছে চুরি ও ছিনতাইয়ের নেটওয়ার্ক। মুলত মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ার পর খরচ যোগাতে তারা একসময় চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি বস্তিকেন্দ্রিক অপরাধের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে রাজনৈতিক তৎপরতা। বস্তির শিশু-কিশোরদের স্বল্প টাকায় ভাড়া করে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক তৎপরতা ও নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতিকালে ৩০ জনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে ২৮ জনই কিশোরগ্যাংয়ের সদস্য। যাদের বয়স ১৫-২০ এরম মধ্যে। নগরের তেররতন, সাদারপাড়া ও উপশহরের বিভিন্ন কলোনির বাসিন্দা তারা।
বস্তিকেন্দ্রিক অপরাধ প্রসঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বস্তিকেন্দ্রিক কিশোরগ্যাংরা যেসব স্থানে আড্ডা দেয় সেগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব কিশোরগ্যাং সদস্যদের সাথে মাদক কেনাবেচার সম্পর্ক রয়েছে। মাদক থেকে পরে তারা চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধে জড়ায়। বস্তি ও কিশোরগ্যাংকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। এই অভিযানের দৃশ্যমান সুফল শিগগির নগরবাসী পাবেন। অপরাধ দমনে বস্তিগুলোর প্রতিও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.