প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৯ (শনিবার)
এনআইডির সাথে নামের অমিল হলে ট্রেনের টিকেট বাতিল

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি, মজুতদারি ও অন্যের নামে টিকিটে যাতায়াত করে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করার দিন শেষ হচ্ছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সিলেটে ট্রেনযাত্রায় টিকিটের তথ্যের সঙ্গে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম ও পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে জেলা প্রশাসন। টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির অমিল পাওয়া গেলেই যাত্রা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
 

বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়।
 

এ সময় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। অভিযানে একাধিক যাত্রীর টিকিটের নামের সঙ্গে নিজস্ব এনআইডির তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এটি টিকিট কালোবাজারি ও অন্যের নামে টিকিট কাটার স্পষ্ট প্রমাণ বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ১২ অক্টোবর থেকে সিদ্ধান্তটি শতভাগ কঠোরভাবে কার্যকরের ঘোষণা দেন।
 

দীর্ঘদিন ধরে সিলেট থেকে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে এক শ্রেণির অসাধু টিকিট কালোবাজারি চক্রের আধিপত্যের অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা ‘গায়েব’ হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে সাধারণ যাত্রীদের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কিনতে হয়।

অন্যদিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা ও পারাবত এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের টিকিট কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। টিকিট কালোবাজারি ও অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমান স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) মামলা করেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদ।
 

টিকিট উধাও হওয়ার বিষয়ে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যম কে বলেন, অনলাইন ও কাউন্টার টিকিট প্রক্রিয়ায় স্টেশন কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনো হাত নেই।

তবে স্টেশন কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের তোয়াক্কা না করে জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, অনলাইন বা কাউন্টার—যেভাবেই টিকিট কেনা হোক না কেন, প্রকৃত যাত্রী ও এনআইডিধারী ব্যক্তি এক হতে হবে। অন্যথায় কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে বা ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে না।
 

জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ১২ অক্টোবর থেকে ট্রেনের টিকিট নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা পরিচয় গোপনের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে স্টেশনে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন ম্যাজিস্ট্রেট ও নজরদারি দল।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০২