‘বই পড়ি, মন গড়ি’—এই দীপ্ত প্রত্যয়কে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ‘শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব-২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২ মাসব্যাপী পরিচালিত পাঠ কার্যক্রমের সাফল্য উদ্যাপন করা হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
আটটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ পেয়েছেন ফাতেমা জাহান, রাজশ্রী হালদার, অদ্রিজা পাল, আসাদুজ্জামান শিহাব, উম্মে কুলসুম মীম, তাসনুভা সুহা, উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ ও ফাতেমা সুলতানা। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আরও নয়জন করে শিক্ষার্থী সনদ, ক্রেস্ট ও বই পেয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও মননশীলতার বিকাশ ঘটে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান এবং কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ তালুকদার। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বইপ্রেমী মানুষ অংশ নেন।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি, জ্ঞানচর্চার চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুঅভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। এ কার্যক্রম সফল করতে উপজেলার শিক্ষক, অভিভাবক ও সাহিত্যপ্রেমী সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ল্যাপটপ বিজয়ী দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজশ্রী হালদার বলেন “ল্যাপটপ পেয়ে আমার খুবই ভালো লাগছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পেরেছি। আগে যেখানে মোবাইলে সময় নষ্ট হতো, এখন বই পড়ার মাধ্যমে নতুন কিছু শিখছি। নির্ধারিত বইগুলোর মধ্যে ‘জিবরাইলের ডানা’ ও ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’ পড়ে চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, “পুরস্কার পাওয়া বড় বিষয় নয়; মূল সার্থকতা হলো বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতার বিকাশ। তরুণেরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যা দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।”
ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শ্রীমঙ্গলের ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং উন্মুক্ত ক্যাটাগরির বইপ্রেমীরা অংশ নেন। তিনটি পর্বে উৎসবে প্রায় ৩৮টি বই পড়ানো হয়েছে। সময়োপযোগী উদ্যোগ তরুণদের নিয়মিত পাঠাভ্যাসে অনুপ্রাণিত করবে এবং শ্রীমঙ্গলে একটি আলোকিত, জ্ঞানভিত্তিক ও মননশীল প্রজন্ম গঠনে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাইফুল/এসডি-১৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.