প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৪৩ (বুধবার)
দৃষ্টিহীন নিরঞ্জনের সুরে আর গানে বেঁচে থাকার গল্প

ছবি: সংগৃহিত

আব্দুল করিম বলে ময়না তোমারে বলি, তুমি গেলে হবে সাধের পিঞ্জিরা খালি, কে শোনাবে মধুর বুলি বলো আমারে, তোমারে পুষিলাম কত আদরে, আমার মাটিরও পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে......’ চলতি পথে মধুর কন্ঠে ভেসে আসা এরকম কোনো গানের সুর যে কারো মন কাড়ে। ইচ্ছা না থাকলেও একটু দাঁড়িয়ে দেখছেন, শুনছেন, কেউবা ভিডিও করছেন। মন চাইলে কেউ কেউ ৫/১০ টাকা দিচ্ছেন জন্মান্ধ নিরঞ্জনকে।

 

নিরঞ্জন ব্যানার্জী। ২৩ বছর বয়সের এক টগবগে যুবক। নিরঞ্জন শব্দের অর্থ দাগহীন, নিষ্কলঙ্ক। কিন্তু নিরঞ্জন বোনার্জী সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত দাগযুক্ত। জন্ম থেকেই অন্ধ। দু’চোখে আলো নেই। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া চা বাগানের বাসিন্দা নিরঞ্জন ২ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সবার বড়। ১ বোনের বিয়ে হয়েছে। বাকী ১ ভাই ও ২ বোন লেখাপড়া করছেন। বাবা গরু পালেন আর মা সংসার গুছিয়ে সময় পেলে দিন মজুরের কাজ করেন।

 

বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুন্ড জলপ্রপাত পর্যটন কেন্দ্রে নিরঞ্জন সকাল-সন্ধ্যা গান গেয়ে পর্যটকদের মনোরঞ্জন দেন। এতে পর্যটকরা তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। যা দিয়ে তার সংসারে জোগান দেয়া হয়। নিরঞ্জনের বাবা প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরবর্তী মাধবকুন্ড পর্যটন কেন্দ্রে তাকে রেখে যান আবার সন্ধ্যায় গিয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে আসেন। তিনি প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার নিয়ে যান। অনেক সময় পর্যটকরা তাকে খাবার দেন। জন্মান্ধ নিরঞ্জন লেখাপড়া না জানলেও বটম মোবাইল টিপে নম্বর তুলে ফোন করতে পারেন এবং ফোন কল রিসিভ করতে পারেন।

 

নিরঞ্জন জানান, ২০১০ সাল থেকে তিনি মাধবকুন্ড পর্যটন রেস্টুরেন্ট প্রকল্প-এর সামনে দাঁড়িয়ে/বসে গান গেয়ে পর্যটকদের বিনোদন দিচ্ছেন। এতে পর্যটকরা তাকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। কোনো দিন ১শ, কোনো দিন ২শ টাকা পাওয়া যায়। এ টাকায় তার সংসারে অনেক জোগান হয়। তবুও দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির বাজারে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। বছরে ৮/৯ মাস ঝরনায় পানি পড়ে তখন পর্যটক আসেন। বাকী ৩/৪ মাস জলপ্রপাত কমে গেলে পর্যটক কম আসেন। তখন আর্থিক সহযোগিতা খুব একটা পাওয়া যায় না।

 

নিরঞ্জন বলেন, “আমিতো চোখে দেখি না। তবে মানুষের মুখে ও মোবাইলে শোনে বেশ কিছু গান ও বাজনা শিখেছি। সে গুলো গেয়ে পর্যটকদের আনন্দ দিয়ে যা পাই তা দিয়েই চলি। আমাকে কেহ সহযোগিতা করতে চাইলে আমার বিকাশে (০১৭২৫-৪০২৯৭৬ পার্সনাল) দিতে পারেন।”


সিলেটভিউ২৪ডটকম/মঞ্জুরে/এসডি-০১/ইকে-০৯