প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০০ (বুধবার)
প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবক আ ট ক, ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে দু’পক্ষের হা*তা*হা*তি

গভীর রাতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবককে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার নুরু মণ্ডলের হ্যাচারির সামনে দুলাল বেপারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবকের নাম নূর আলম। তিনি একই এলাকার আহমদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বৈদ্যুতিক কাজ ও মোবাইল সামগ্রী সংক্রান্ত কাজ করেন। আটকের পর রাতে তাকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তার স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
 

এদিকে ওই নারী দুলাল বেপারীপাড়া এলাকার ইউসুফ বেপারীর স্ত্রী। তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ইউসুফ বেপারী জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে কয়েকজন যুবক ওই নারীর ঘরের সামনে গিয়ে তাকে দরজা খুলতে বলেন। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে ওই নারী দরজা খোলার বিষয়ে আপত্তি জানান এবং তাদের সেখানে আসার কারণ জানতে চান। পরে যুবকেরা ঘরটি তল্লাশি করার কথা বললে তিনি দরজা বন্ধ করে দেন।
 

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর ঘরের দরজা খোলা হলে কয়েকজন যুবক ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে ঘরের খাটের নিচে এক যুবককে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ওই যুবক ও নারীকে ঘরে আটকে রেখে দরজায় তালা দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইম প্রামাণিক জানান, ঘটনার সময় তারা বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় এলাকার এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে ওই বাড়িতে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড চলার খবর পান তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেন। পরে ঘরের ভেতরে কেউ থাকার বিষয়ে সন্দেহ হলে তারা দরজায় নক করেন। দরজা খোলার পর ঘরের ভেতরে নূর আলমকে দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।
 

তিনি বলেন, ঘটনার পর এলাকার মুরুব্বি ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা সেখানে আসেন। তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে ঘরের দরজা ভেঙে নূর আলমকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিনি মাথায় আঘাত পান বলে দাবি করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নূর আলমকে অন্য পথে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন সাইম।

এদিকে প্রবাসীর স্ত্রীর ভাসুর মো. রোকন উদ্দিন বেপারী বলেন, রাতে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। পরে বাইরে এসে জানতে পারি নূর আলমকে ওই ঘরের ভেতর আটক করা হয়েছে। এ সময় তিনি স্থানীয় মাতব্বর ও অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন। পরে নূর আলমের স্বজনেরা ঘরের দরজা ভেঙে তাকে বের করে নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে তার হাত কেটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নূর আলমের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৬