সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন সব সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে নগরজুড়ে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মহালক্ষ্মী মন্দিরে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ পূজাকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মন্দির ও আশপাশের এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে কুমারী পূজার প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখে। ঈদুল আজহায় যেমন নগর পরিচ্ছন্ন রাখা ও বর্জ্য অপসারণে সিসিক দ্রুতগতিতে কাজ করেছে, তেমনি দুর্গাপূজার আগেও এবং পূজা চলাকালীন মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পূজা শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব মণ্ডপের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে আয়োজিত পূজাগুলোতেও যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও সিটি কর্পোরেশন নজর রাখছে। পূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে পাঁচ দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কোনো পূজামণ্ডপে বা পূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে দ্রুত সিটি কর্পোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের হটলাইনসহ প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। পূজা চলাকালীন সময়ে সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় উৎসব কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের একার বিষয় নয়; এটি সবার উৎসব। জন্ম, ধর্ম বা পরিচয়ের কোনো ভেদাভেদ না করে নগরবাসীর সেবা করাই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। তাই দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে সিসিক সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
প্রশাসক বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজও করা হচ্ছে। মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে পূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি পূজামণ্ডপের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অসুবিধা বা প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, সাধারণ সম্পাদক জনার্দ্ধন চক্রবর্তী মিন্টু, সহসভাপতি নারায়ণ চক্রবর্তী, চন্দন দাস ও মিন্টু দাস, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জিত কর, উপদেষ্টা অধ্যাপক প্রতাপ চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নন্দন পাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোজ তালুকদার, লাভলু দেব, নান্টু দাস, অহিভূষণ দেব, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গৌছ উদ্দিন পাপ্পু, শুভংকর দাস, নিরু দেব, সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেব প্রমুখ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১৬
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.