সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান বলেছেন, যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি সচল রাখতে বাণিজ্য মেলার ভূমিকা অপরিসীম। বাণিজ্য মেলা কেবল পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করে। পণ্যের গুণগত মান প্রদর্শন, বাজার যাচাই এবং নতুন নতুন ভোক্তা তৈরি করার ক্ষেত্রে এ ধরনের মেলার গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নারী উদ্যোক্তাদের অবদান আজ অনস্বীকার্য। মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতা দিয়ে আমাদের নারীরা কেবল নিজেদের আত্মনির্ভরশীল করছেন না, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এক বিপ্লব ঘটাচ্ছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ আক্টোবর) নগরের শাহী ঈদগাহ মাঠে সিলেট উইমেন চেম্বার আয়োজিত মাসব্যাপী সৃজণশীল পন্য ও বানিজ্যমেলার উদ্বোধনী উনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
চেম্বারের সভাপতি লুবানা ইয়াসমীন শম্পার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিলেটের পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম (বিপিএম), সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনুর রুবাইয়াৎ, উইমেন চেম্বারের পরিচালক সামা হক চৌধুরী ও সিলেট প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি এম এ হান্নান।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উইমেন চেম্বারের সহ সভাপতি আলেয়া ফেরদৌসি তুলি।
পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম (বিপিএম) বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ এবং উপযুক্ত বিক্রয়-বিপণনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। অনেক সময় দেখা যায়, আমাদের নারী উদ্যোক্তারা চমৎকার ও মানসম্মত পণ্য তৈরি করা সত্ত্বেও সঠিক বিপণন ব্যবস্থার অভাবে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন না। সিলেট উইমেন চেম্বারের আয়োজিত এই মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা নারী উদ্যোক্তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁদের তৈরি হস্তশিল্প, দেশীয় বস্ত্র ও নানা ধরনের সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শন এবং ব্র্যান্ডিং করার এক দারুণ ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। তিনি বলেন, এই মেলার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্রেতাদের চাহিদা ও মতামত জানতে পারবেন, যা পণ্যের মান উন্নয়নে সাহায্য করবে।
জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাধারণভাবে মেলা বলতে আমরা বুঝি কেনাবেচা আর লাভ-ক্ষতির হিসেব। কিন্তু একটি বাণিজ্য মেলা কেবল নিছক ব্যবসা বা অর্থনৈতিক লাভ করার মাধ্যম নয়; এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে আমাদের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আনন্দ।
তিনি বলেন, আজকের এই আধুনিক ও যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে আমাদের জীবন ক্রমেই চার দেয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে পড়েছে। কাজের চাপ, ব্যস্ততা আর যান্ত্রিকতায় মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন একটু মুক্ত বাতাস, আনন্দ ও বিনোদন আমাদের মনকে সজীব রাখতে সাহায্য করে। মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করতে বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা আজ অনস্বীকার্য। এ দিক বিবেচনায় সিলেট উইমেন চেম্বার আয়োজিত এই বাণিজ্য মেলাটি মূলত ‘একের ভেতর দুই’। একদিকে এটি আমাদের নারী উদ্যোক্তাদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার এবং বিপণনের এক বিশাল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে; অন্যদিকে শহরবাসীদের জন্য উপহার দিয়েছে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ও একটু আনন্দের ছোঁয়া পাওয়ার চমৎকার একটি স্থান।
জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, উইমেন চেম্বার আয়োজিত মাসব্যাপী এই বাণিজ্যমেলা নি:সন্দেহে ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সহায়ক হবে। তিনি মেলার সফলতা কামনা করে বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে এই মেলায় আসুন, মেলায় দেশীয় ও নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য দেখুন এবং কেনাকাটা করে তাঁদের উৎসাহিত করুন। আপনাদের ভালোবাসাই তাঁদের ভবিষ্যতে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে লুবানা ইয়াছমিন শম্পা বলেন, মেলা কেবল অর্থনৈতিক লাভের হিসাব দিয়ে একটি বাণিজ্য মেলার সার্বিক প্রভাব বিচার করা যায় না। বাণিজ্য মেলা মূলত একই সাথে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সামাজিক বিনোদনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আজকের এই ব্যস্ত ও যান্ত্রিক সময়ে, যেখানে জীবনের কর্মব্যস্ততায় ক্লান্তি এসে ভর করে, সেখানে এই মেলা আমাদের জন্য নিয়ে এসেছে সজীবতার এক নতুন বাতাস।
তিনি বলেন, আমাদের স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা যাতে তাঁদের নিপুণ হাতে তৈরি হস্তশিল্প, পোশাক, দেশীয় পণ্য ও সৃজনশীল উদ্ভাবন প্রদর্শন করতে পারেন এবং তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের একটি বড় বাজার ও বিপণন সুবিধা গড়ে তুলতে পারেন, তার উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা। তিনি মেলা সফলতায় সিলেটের সকল শ্রেনীপেশার মানুষের সহযোগীতা কামনা করেন।
উদ্বোধন শেষে মেলা প্রাঙ্গণে জমজমাট সাংস্কৃতিক পবিশেনা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৭
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.