সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক বেহাল। তাই যাত্রীদের চাপ বেশি ট্রেনে। কিন্তু কালোবাজারিদের দৌরাত্মের কারণে সিলেট-ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনের টিকেট এখন সোনার হরিণ। অনলাইনে ১০ দিন আগে উন্মুক্ত হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে হাওয়া হয়ে যায় সকল টিকেট। প্রশাসনের অভিযানে ইতোমধ্যে কালোবাজারি কয়েকটি চক্র চিহ্নিত হয়েছে।
এর সাথে জড়িত রয়েছেন খোদ রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগের (আরএনবি) কর্মীরাও। মুহুর্তে টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারণ ও জড়িতদের সনাক্তে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন এক বিচারক।
এ ছাড়া টিটিইদের ম্যানেজ করে অবৈধ যাত্রী ওঠা এবং হিজড়াদের উপদ্রবে দমবন্ধ অবস্থায় ভ্রমণ করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ৮টায় সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের সকল ট্রেনের ১০ দিন পরের টিকেট অনলাইনে ছাড়া হয়। টিকেট উন্মুক্তের ৪-৫ মিনিটের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় সকল আসন। একজন যাত্রী অ্যাপস ওপেন করে সিট বুকিং দেওয়ার আগেই দেখেন সকল আসন বিক্রি হয়ে গেছে। তবে, অনলাইনে টিকেট না পেলেও স্টেশনে দালালদের কাছে গেলে বাড়তি দামে ঠিকই টিকেট মিলে। আবার ফেসবুক ও হোয়াটঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপেও ট্রেনের টিকেট বিক্রি করে থাকে চক্রের সদস্যরা।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে জেলা প্রশাসনের অভিযানে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগে আরএনবি’র দুই সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ছাড়া সকাল ৮টায় অনলাইনে উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে সকল টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে একসঙ্গে এত টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা রয়েছে কি না, এসব বিষয় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।
এদিকে, সিলেটের জেলা প্রশাসকও গত ৯ অক্টোবর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করে কালোবাজারির সত্যতা পেয়ে ‘টিকেটে নাম যার, ভ্রমণ তার’- এমন নীতি ঘোষণা করেন। তাঁর নির্দেশনা মতে, গত ১২ অক্টোবর থেকে এনআইডি কার্ডের নামের সাথে টিকেটের মিল আছে কি-না তা স্টেশনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। টিকেট পরীক্ষার প্রথম দিনই জালিয়াতির সাথে জড়িত এক ব্যক্তিকে ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে আটক করে একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত। কিন্তু এরপরও থেমে নেই চক্র।
শনিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকেট উন্মুক্ত হওয়ার পর ৫-৭ মিনিটের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী রাতের সকল টিকেট বুকড হয়ে যেতে দেখা গেছে। আর দিনের বেলার ট্রেনের টিকেটের অস্তিত্ব ছিল ঘন্টাখানেক।
এদিকে, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরে দেখা গেছে, ট্রেন ছাড়ার আগে টিটিই’দের ম্যানেজ করে অনেকে অবৈধভাবে ওঠছেন। টাকার উপর নির্ভর করে টিটিই’রা নির্ধারণ করেন অবৈধ যাত্রীরা সিট পাবেন, না দাঁড়িয়ে যাবেন। এসব অবৈধ যাত্রীদের কারণে অস্বস্তিতে পড়তে হয় টিকেট কেটে ওঠা বৈধ যাত্রীদের। প্রতিটি বগিতে দাঁড়িয়ে থাকেন ২৫-৩০ জন অবৈধ যাত্রী। এতে তৈরি হয় দমবন্ধ অবস্থা।
এছাড়া স্টেশনে স্টেশনে হিজড়াদের উৎপাত ও ফেরিওয়ালাদের অবাধ বিচরণ যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। কিন্তু টিটিই ও নিরাপত্তাকর্মীদের সেদিকে খেয়াল থাকে না। পুরো সময় জুড়ে তাদের সকল ব্যস্ততা থাকে অবৈধযাত্রীদের সেবা নিশ্চিতে।
এ প্রসঙ্গে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম সিলেটভিউ-কে বলেন, “রেলের টিকিট অনলাইনে ইস্যু হয়। কেউ কেউ কাউন্টার থেকেও কেনেন। কাউন্টারে নিয়মমাফিক টিকেট বিক্রি হচ্ছে কি-না সেটা তদারকি করি আমরা। প্ল্যাটফর্মে বিনা টিকিটের যাত্রীদের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা তদারকি করছি।”
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ/এসডি-০৭
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.