প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ (শনিবার)
সদর উপজেলায় ছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণ/চেষ্টা, মাদ্রাসা ভা*ঙ*চু*র করলো জনতা

সদর উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবু ইউসুফ প্রামাণিক নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ওই মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালিয়েছে এবং কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর রাতের দিকে পাবনার সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকার ‘নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসা’য় এই ঘটনা ঘটে।
 

আটক শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিক পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় ইউসুফ প্রামাণিক স্ত্রীসহ সেখানেই থাকতেন। বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী বাড়িতে চলে যাওয়ায় রাতে তিনি একাই ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের এক আবাসিক ছাত্রী টয়লেটে যাওয়ার জন্য রুম থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তার হাত ধরে টেনে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে ছাত্রীটি কৌশলে পালিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়।
 

ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই উত্তেজিত এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত একাধিক অপকর্মের অভিযোগ উঠেছিল।

এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরাপদে স্থানান্তরিত হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের জিম্মায় বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
 

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ইউসুফকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এলাকাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে পড়াশোনার কোনো পরিবেশ না থাকায় অন্য শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১০