সিলেট মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব ও পদবণ্টন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক পদে সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী এবং সদস্য সচিব পদে সাবেক ছাত্রনেতা আজমল বখত চৌধুরী সাদেকের নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে নেতাকর্মীদের।
আজমল বখত চৌধুরী সাদেকের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রদলের মাধ্যমে। নব্বইয়ের দশকে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। সিলেট জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন সাদেক। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০১০ সালের কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি।
২০১৪ সালের নভেম্বরে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে সিনিয়র সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন সাদেক। ২০১৬ সালের সম্মেলনের পর প্রথম যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে বিভিন্ন পর্যায়ে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে নতুন কমিটিতে সদস্য সচিব পদে তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য আহ্বায়ক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী। সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই নেতা ছাত্ররাজনীতি, যুবরাজনীতি, দলীয় নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিত্বে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
মদনমোহন কলেজে অধ্যয়নকালে তৎকালীন শহর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে যুবদলের দায়িত্বেও ছিলেন পংকী।
১৯৮৮ সালে সিলেট পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৯ সালে পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় রাজনীতিতে ২০১১ সালে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ২০১৬ সালে সিনিয়র সহসভাপতি এবং ২০২০ সালে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন পংকী। ২০২১ থেকে ২০২৩ মেয়াদে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা মূলত সম্ভাব্য নেতৃত্ব ও পদবণ্টনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। একদিকে সদস্য সচিব পদে সাদেকের নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, আহ্বায়ক পদে পংকীর নাম উঠে আসছে।
তবে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নতুন কমিটির কাঠামো, নেতৃত্ব এবং ঘোষণার সময় নিয়েও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী ও আজমল বখত চৌধুরী সাদেক—দুজনেরই মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁদের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় আসছে। তবে কমিটিতে কে কোন দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা চাই, নতুন কমিটির মাধ্যমে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হোক।
তবে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা দলের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে—এমন প্রত্যাশা তৃণমূলের। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত বলছেন তারা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.