ছবি: সংগৃহিত
মামলা দিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন বানচালের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় ব্রঙ্কসের একটি কমিউনিটি হলে সেলিম-আলী পরিষদ ব্রঙ্কস ব্যুরো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ব্রঙ্কস ব্যুরো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শাহ্ বদরুজ্জামান রুহেলের সঞ্চালনায় এবং ব্রঙ্কস ব্যুরো আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য আব্দুল হাসিম হাসনু। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য মনসুর আহমদ এবং গীতা পাঠ করেন পল্লব সরকার।
জনৈক উসমান চৌধুরীর মামলার প্রেক্ষিতে ব্রঙ্কস সুপ্রিম কোর্ট ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন এবং আগামী ৫ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সোসাইটির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং ৩৫ হাজার ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অধিকার সাময়িকভাবে হরণ করা হয়েছে।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উসমান চৌধুরী সোসাইটির মঙ্গল চান না। তিনি ২০১৮ সাল থেকে মামলা করে করে সোসাইটির শুধু আর্থিক ক্ষতি করছেন না, বরং সোসাইটির মান মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছেন এবং সাধারণ সদস্যদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বক্তারা বলেন, একজন উসমান চৌধুরী একা এমন কাজ করছেন ভাবলে ভুল হবে, তার পেছনে আরও অনেকের হাত রয়েছে।
তিনি চাইলে দুই মাস আগে কোর্টে যেতে পারতেন, কিন্তু তিনি নির্বাচনের দুই দিন আগে কোর্টে গেলেন নির্বাচন বন্ধ করতে, যখন ভোট উৎসবের সব কাজ সম্পন্ন এবং বেশ বড় অংকের টাকা ইতিমধ্যে খরচ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা যখন প্রস্তুত, তখন এই স্থগিতাদেশ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মামলাবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তারা এই হীন কর্মের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানান। বক্তারা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোসাইটির নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিপক্ষ না জেনে একতরফাভাবে আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন কিন্তু তারা জানেন যে আমাদের আগের কমিটি কার্যকরী সভায় তার সদস্যপদ বাতিল করেছিল এবং আমরা সেটাকে অনুস্মরণ করেছি। উসমান চৌধুরী এই প্রথম মামলা করেনি, সে ২০১৮ সালেও মামলা করেছিল যা এখনো চলমান আছে। আমরা যেমন বাংলাদেশ সোসাইটির গঠণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তেমনি এদেশের আইনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। আমরা আইনগত এর মোকাবেলা করব।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ব্রঙ্কস ব্যুরো প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আহমদ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন আহমদ সোহাগ, ব্রঙ্কস ব্যুরো প্রধান সমন্বয়কারী মুমিনুল ইসলাম মুমিন, মূলধারার রাজনীতিবিদ আব্দুস শহীদ, ব্রঙ্কস ব্যুরো যুগ্ম আহ্বায়ক সোহান আহমেদ টুটুল, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী এনাম মিয়া দুলাল, ব্রঙ্কস ব্যুরো যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী, ব্রঙ্কস ব্যুরো যুগ্ম সদস্য সচিব ফরহাদ আলম লিটু, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আহমদ মানিক, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটির সাবেক সভাপতি তোজাম্মুল হোসেন, হবিগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি সাব্বির আহমেদ, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহসভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি লোকমান হোসেন লুকু, কবি এমরান আলী টিপু, বাংলাদেশ সোসাইটির যুব ও আইটি সম্পাদক পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী রোমানা আহমেদ, ব্রঙ্কস ব্যুরো যুগ্ম সদস্য সচিব দুলাল রহমান, কবির ফারুক, শেখ ওলি, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালিক, বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী মনির আহমেদ, সিলেট জেলা সমিতির সভাপতি কপিল আহম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাহিত্য সম্পাদক আহমেদ ফয়সল।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি মখন মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, মোহাম্মদ বশির মিয়া, হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী ডালিম, আশফাকুল হক চৌধুরী, হুমায়ুন কবির সুহেল, আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, কবি মাসুম আহমদ, রিয়েলটর এম এইচ এ আজাদ, গোলাম মুহিত, গোলজার হোসেন, বাবু শ্যামল কান্তি চন্দ, আনাম আহমদ, এ টি এম খসরুজ্জামান, ইস্কন্দর আলী মিন্টু, শাহজান শাহ, এম জে আহমেদ জাবেদ, রাসেল আহমদ এবং মোহাম্মদ রনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/ইকে-০৪
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.