প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০০ (মঙ্গলবার)
ইউরোপের বাজারে খুলছে সিলেটে কৃষিপণ্যের বাজার

ছবি- এআই

একসময় সিলেট থেকে প্রচুর পরিমাণ কৃষিপণ্য রফতানি হত ইউরোপে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সিলেটের সবজি ও লেবু জাতীয় কৃষিপণ্যের চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া।
 

কিন্তু সিলেট থেকে পাঠানো লেবুজাতীয় ফলে ‘সাইট্রাস ক্যানকার’ জীবাণু সনাক্ত হওয়া এবং বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হোঁচট খায় রফতানি। ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে সিলেট থেকে কৃষিপণ্য রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ওসমানী থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু ও কার্গো কমপ্লেক্স হলেও প্যাকেজিং হাউস নির্মাণ না হওয়ায় রফতানি সম্ভাবনা আটকে যায়।
 

অবশেষে বাণিজ্যমন্ত্রীর আধাসরকারি পত্রের (ডিও লেটার) প্রেক্ষিতে প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। চলতি বছরেই প্রকল্পটির কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২০ বছর পর সিলেট থেকে ইউরোপের বাজারে ফের কৃষিপণ্য রফতানি শুরু হবে। এতে সিলেটের কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

সিলেটের ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইটে সিলেটে উৎপাদিত লেবু জাতীয় ফল ও সবজি যুক্তরাজ্যে রফতানি হত। সেখান থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও যেত এসব কৃষিজপণ্য। বিশেষ করে বাঙালি অধ্যুষিত লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, লুটন, ওল্ডহ্যাম, নিউহ্যাম, ব্র্যাডফোর্ড, রচডেল, নিউক্যাসল ও ওয়েলসের কার্ডিফের সুপারশপগুলোতে এসব ফল ও সবজির কদর ছিল বেশি। কিন্তু একসময় বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রফতানিকৃত সাইট্রাস ফলে ‘ক্যানকার্স’ জীবানু সনাক্ত হওয়ায় সিলেট থেকে কৃষিপণ্য রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে ঢাকার শ্যামপুরের প্যাকিং হাউসের মাধ্যমে মাননিয়ন্ত্রণ ও প্যাকিং করে সিলেটের কৃষিপণ্য রফতানি করতে হতো। এতে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও রফতানিকৃত পণ্য নষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে সিলেটের ব্যবসায়ীরা রফতানিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
 

বর্হিবিশ্বে সিলেটের কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গত সরকারের আমলে ওসমানী বিমানবন্দরে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় কার্গো কমপ্লেক্স। কিন্তু প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মিত না হওয়ায় কৃষিপণ্য রফতানি সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিলেট থেকে রফতানির সুযোগ কাজে লাগাতে প্যাকিং হাউস নির্মাণে জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়কে ডিও লেটার দেন। প্যাকিং হাউসের জন্য ওসমানী বিমাবন্দর সংলগ্ন বাইশটিলা এলাকায় জায়গাও নির্ধারণ করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ হলে সিলেট থেকে ‘গোয়ালগাদ্দা সীম’, নাগা মরিচ, খাসিয়া পান, তইকর, ডেফল, ফরাশ ও সীমের বিচি, ঢাকাদক্ষিণের লালমাটির কচুমূখী ও লতি, জারা লেবু, আদালেবু, সাতকরা, কমলা, মাল্টা, আসারস, তরমুজ ও লুকলুকিসহ বিভিন্ন রকম ফল ও সবজি রফতানি সম্ভব হবে। ইউরোপের বাজারে এসব পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে।
 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে কৃষকরা তাদের পণ্যের ভালো দাম পাবেন। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদনেও আগ্রহ বাড়বে।

ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, প্যাকিং হাউস ছাড়া ওসমানী বিমানবন্দর দিয়ে কৃষিজপণ্য রফতানির সকল সুবিধা রয়েছে। এটা স্থাপন করা গেলে সিলেট থেকে অনেক ধরণের কৃষিপণ্য রফতানি সম্ভব হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ