প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:২৪ (বৃহস্পতিবার)
ফলাফলে জিপিএ-৫, বন্ধু গোপনে খাতা চ্যালেঞ্জ করিয়ে পেলেন ফেল!

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জনকারী এক শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে তার এক বন্ধুর মনে সন্দেহ জাগে। ওই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো যোগ্য নয় বলে মনে করায় বন্ধু নিজেই গোপনে তার খাতা পুনর্নিরীক্ষার (রি-এক্সামিন) আবেদন করে। আর তাতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য- পুনর্নিরীক্ষায় দেখা গেছে জিপিএ-৫ পাওয়া সেই শিক্ষার্থী আসলে পাসই করেনি, বরং ফেল করেছে!
 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে করা পোস্টে চমকপ্রদ এই ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথাপ্রসঙ্গে এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর বিষয়টি সামনে এসেছে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী-

সন্দেহ ও বন্ধুর কাণ্ড: জিপিএ-৫ পাওয়া ওই শিক্ষার্থী আদতে কেমন ছাত্র বা তার প্রস্তুতি কেমন ছিল, তা তার এক বন্ধু খুব ভালোভাবেই জানত। বন্ধুর জিপিএ-৫ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই- এমন বিশ্বাস থেকে সেই বন্ধু একটু দুষ্টুমি করে এবং কৌতূহলবশত অভিনব এক কাণ্ড ঘটায়।
 

যাচাই ছাড়াই রি-এক্সামিনেশন আবেদন: বর্তমান ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের ভেরিফিকেশন কোড ছাড়াই যে কেউ চাইলেই অন্যের খাতা পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওই বন্ধু তার জিপিএ-৫ পাওয়া বন্ধুর খাতা রি-এক্সামিন করার জন্য পাঠিয়ে দেয়।

নম্বরে কারসাজি ও জালিয়াতির রহস্য: খাতা পুনর্নিরীক্ষার পর যে ফলাফল আসে, তাতে দেখা যায় সেই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ তো দূরের কথা, ফেল করেছে! মূলত খাতার নম্বরে বড় ধরনের গরমিল বা জালিয়াতি করা হয়েছিল। যেখানে কোনো একটি বিষয়ে শূন্য পেয়েছিল, তাকে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে ৮৫; আবার কাউকে ১৩ নম্বর দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে ৮৩- আর এভাবেই পুরো জিপিএ-৫ এর জাদুকরী ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল।
 

উল্লেখ্য, নজিরবিহীন ও সন্দেহজনক এই নম্বর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কীভাবে খাতার নম্বর এভাবে পরিবর্তন করা হলো, তা উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৯