প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫৩ (শুক্রবার)
অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত আবদুল মতিন

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এবিজেএ) সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সংগঠক মোহাম্মাদ আবদুল মতিন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, শিক্ষা ও কমিউনিটি সেবায় যুক্ত আবদুল মতিন বর্তমানে দৈনিক কালবেলার কান্ট্রি এডিটর (অস্ট্রেলিয়া), অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিদেশ-বাংলার সম্পাদক এবং রিলায়েবল কলেজ অব নার্সিংয়ের (আরসিএন) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সিডনির রকডেলে রেড রোজ ফাংশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচনে তিনি পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন।

সভায় এবিজেএর সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাংবাদিক এবং জ্যেষ্ঠ কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনের মাধ্যমে ১৭ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
 

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ডা. ওয়ালি উল ইসলাম, ড. সাবরিনা ফারুকি ওএএম এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

১৯৮৯ সালে দৈনিক আজাদের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন মোহাম্মাদ আবদুল মতিন। ১৯৯১ সালে তিনি ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে যোগ দেন। দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করার সময় তিনি সচিবালয়, জাতীয় সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বঙ্গভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের সংবাদ সংগ্রহ করেন।
 

অস্ট্রেলিয়ায় এসেও সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে। দৈনিক কালবেলার অস্ট্রেলিয়া কান্ট্রি এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিদেশ-বাংলার সম্পাদক। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম, বিনোদন ও শিল্প খাতের পেশাজীবী সংগঠন মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আর্টস অ্যালায়েন্স (এমইএএ) এবং লোকাল অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট নিউজ অ্যাসোসিয়েশনের (এলআইএনএ) সদস্য তিনি। এর আগে সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এক দশকেরও বেশি সময়ের। সংগঠনটির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার, সাংবাদিকদের মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে তিনি কাজ করে আসছেন।
 

সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রিলায়েবল কলেজ অব নার্সিংয়ের (আরসিএন) সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি কোয়ালিফায়েড এডুকেশন এজেন্ট কাউন্সেলর (কিউইএসি) এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের জাস্টিস অব দ্য পিস (জেপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা গণমাধ্যম ও শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতেও বিস্তৃত। অস্ট্রেলিয়ার অ্যামাজনে নন-ইনভেন্টরি প্রকিউরমেন্ট অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি রোবোটিকস কার্যক্রম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে অ্যামাজন রোবোটিক ইউনিভার্সিটি থেকে ইউনিভার্সাল প্রসিডিউরস আপস্কিল সার্টিফিকেট অর্জন করেন।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মোহাম্মাদ আবদুল মতিন কোভিড হিরো অ্যাওয়ার্ড এবং প্যান্ডেমিক হিরো অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ফেডারেল মন্ত্রী টনি বার্ক তাঁকে কোভিড হিরো অ্যাওয়ার্ড দেন। অন্যদিকে, প্যান্ডেমিক হিরো অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিল।

এ ছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলসের ইস্ট হিলসের সংসদ সদস্য ওয়েন্ডি এলিজাবেথ লিন্ডসে এবং ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়রের কাছ থেকেও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, শিক্ষা ও কমিউনিটি সেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকেও সম্প্রতি তাঁকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
 

এবিজেএর সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নেতৃত্বে তাঁর ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক ও লেখকদের মধ্যে ঐক্য জোরদার, পেশাগত মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে সংগঠনটির ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি, সংগঠন ও পেশাজীবীরা মোহাম্মাদ আবদুল মতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/খলিল/এসডি-১৪