সততা, নিষ্ঠা আর মাঠপর্যায়ের আপসহীন নেতৃত্ব যে একজন মানুষকে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এনে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন প্রথিতযশা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আতাউর রহমান। সম্প্রতি সিডনিতে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এবিজেএ)-এর নির্বাচনে বিপুল ভোটে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তাঁর এই আন্তর্জাতিক স্তরের মহিমান্বিত পদপ্রাপ্তি প্রবাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংবাদিক সমাজ ও তৃণমূলের নেতৃত্বকে এক অভাবনীয় কর্মস্পৃহা এবং বিশেষ ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছে।
হায়দরাবাদ গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এক কিংবদন্তি নেতৃত্ব
আতাউর রহমানের এই বিশাল নেতৃত্বের ভিত্তি রাতারাতি গড়ে ওঠেনি, এর সূচনা হয়েছিল প্রায় সাড়ে চার দশক আগে তাঁর নিজ গ্রাম থেকে। তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী হায়দরাবাদ গ্রামে ১৯৭৯ সালে স্থানীয় যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ‘জনকল্যাণ সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতার কারণে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন। নিজ গ্রাম হায়দরাবাদ থেকে শুরু হওয়া জনকল্যাণের সেই প্রজ্জ্বলিত স্পৃহাই আজ তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের নেতৃত্বে নিয়ে এসেছে।
পেশাদার সাংবাদিকতা ও ‘দৈনিক বঙ্গলোক’-এর সারথি
আতাউর রহমান দীর্ঘ চার দশক দেশের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম—বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এ এক বিশ্বস্ত ও পোড়খাওয়া কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবন শেষে ২০২৫ সালে তিনি বাসস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে জনপ্রিয় ‘দৈনিক বঙ্গলোক’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি গাজীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় পত্রিকা 'সাপ্তাহিক ভাওয়াল'-এর সম্পাদক। একই সাথে তিনি গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জিইউজে) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং গাজীপুর প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তৃণমূল ও জাতীয় গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায় অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন।
আতাউর রহমান দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর একজন গর্বিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এ ছাড়াও দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার রক্ষা কমিটিগুলোর প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরাম (বিজেআরএফ) এবং বাংলাদেশ লেবার রাইটস জার্নালিস্ট ফোরাম (বিএলআরজেএফ) উভয় সংগঠনেরই সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি জেনারেল) হিসেবে সফলভাবে কাজ করছেন। এর আগে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়ে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনসহ সাংবাদিকদের আন্দোলনে কেন্দ্রীয়ভাবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।
মেধা, গবেষণা ও কলম সৈনিকের অনন্য মেলবন্ধন
আতাউর রহমান শুধু একজন ক্ষুরধার সাংবাদিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাই নন, তিনি একাধারে একজন নিষ্ঠাবান গবেষক ও ইতিহাসবিদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি রচনা করেছেন ১৯৭১ সালের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ নিয়ে আকর গ্রন্থ 'জয়দেবপুর সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন'। এ ছাড়া উপমহাদেশের আলোড়ন সৃষ্টিকারী ইতিহাস নিয়ে তাঁর রচিত 'ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজা সন্ন্যাসী' গ্রন্থটি পাঠক ও গবেষকমহলে বিপুল সমাদৃত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়েও তাঁর রয়েছে গভীর পাণ্ডিত্য; বিশেষ করে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর খনিজ 'এসবেসটস' নিয়ে তাঁর রচিত গবেষণাধর্মী গ্রন্থটি পরিবেশ বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য নীতিতে এক অনন্যোজন।
নতুন কমিটির দূরদর্শী পথচলা
এবিজেএ-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে মোহাম্মদ আবদুল মতিন সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি দৈনিক বঙ্গলোক সম্পাদক আতাউর রহমানের সহ-সভাপতি হওয়া প্রবাসী ও দেশীয় গণমাধ্যমের মধ্যকার সেতুবন্ধনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল । তাঁর এই অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে, সমাজ, ইতিহাস, পরিবেশ ও মানুষের অধিকার নিয়ে রাজপথে সোচ্চার থাকা এবং সততার সাথে তৃণমূল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করা নেতৃত্ব সবসময় বিশ্বপরিমণ্ডলেও সমাদৃত হয়।
তাঁর এই ঐতিহাসিক অর্জনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাব ও সামাজিক সংগঠন থেকে অভিনন্দনের জোয়ার ভাসছে। আতাউর রহমানের এই বৈশ্বিক পদযাত্রা আগামী দিনের তরুণ ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের কলম ও নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী, স্বাধীন এবং সাহসী করতে এক অন্তহীন অনুপ্রেরণা জোগাবে—এটাই আজ সমগ্র সাংবাদিক সমাজের দৃঢ় প্রত্যাশা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/খলিল/এসডি-১৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.