প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০০ (শনিবার)
সিলেটে প্র/তা/র/ণা ও ভেজালের ভিড়ে আসল নকল চেনা দায়

সিলেট নগরীর বারুতখানার একটি বাসায় গুদামজাত করা হয়েছে অলিভওয়েল। চটকদার মোড়কে সেই অলিভওয়েল যাচ্ছে বাজারের অভিজাত দোকানগুলোতে। কিন্তু ভোক্তা অধিকারের অভিযানে বের হয়ে আসে প্রতারণার কৌশল। অলিভওয়েলের বোতলে মুলত বিক্রি হচ্ছিল সয়াবিন তেল। আর ক্রেতারা আসল-নকল চিনতে না পেরে বাড়তি দামে কিনছেন এই নকল অলিভওয়েল।
 

গত কয়েক মাস ধরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই’র অভিযানে একের পর এক বের হয়ে আসছে ভেজাল পণ্যের কারখানা। খাবার থেকে শুরু করে প্রসাধনী সামগ্রী সকল জায়গায় চলছে ভেজাল পণ্যের রাজত্ব। ভেজালের ভিড়ে আসল-নকল চিনতে ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভেজালের কৌশল দেখে খোদ অভিযানকারীরাই হতবাক হচ্ছেন।
 

আর চিকিৎসকরা বলছেন, খাবারে যেভাবে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল ও মসলা ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে।

সম্প্রতি সিলেটের কদমতলী ফল আড়তে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার। এসময় অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ভোক্তা অধিকারের উপপরিচালক আরিফ মোর্শেদ মিশু দেখতে পান আড়তে পঁচা ফল বিক্রির জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে। আড়ত থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপশহরের এবিসি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে পঁচা ফল ও ক্ষতিকারক ক্যামিকেল দিয়ে জুস তৈরির অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। কাপড়ের রঙ ও ক্ষতিকারক ক্যামিকেল ব্যবহারের দায়ে নগরের কয়েকটি রেস্টুরেন্টকেও গুনতে হয়েছে জরিমানা।
 

নগরীর লালদিঘিরপাড় ও দক্ষিণ সুরমার যমুনা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল কসমেটিক্স পণ্য জব্দ করা হয়। নিম্নমানের নকল প্রসাধনী সামগ্রী বিদেশি বলে বিক্রির অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

গেল কয়েকদিন আগে নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজারে জোহা নামের একটি অভিজাত পোষাকের দোকানে অভিযান করে ভোক্তা অধিদপ্তর। এসময় অভিযানকারীরা দেখতে পান ৭০০ টাকায় কেনা পাঞ্জাবিতে ২৮০০ টাকা মূল্যের ট্যাগ লাগিয়ে ৭০ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দিয়ে বিক্রি করছে। সোলস নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান বিদেশের ট্যাগ দিয়ে দেশি পোষাক বিক্রি করছে- এমন প্রতারণার বিষয়টিও ধরা পড়ে অভিযানে।
 

দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলাস্থ ফেমাস মার্কেটে জেলা প্রশাসনের অভিযানকালে সার্টার লাগিয়ে কয়েকটি ফার্মেসির কর্মচারীরা পালিয়ে যান। পরে সেগুলো থেকে মেয়াদোর্ত্তীণ, নকল ও সরকারি ঔষধ জব্দ করা হয়। নোংরা পরিবেশে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল দিয়ে খাদ্যসামগ্রী তৈরির দায়ে কয়েকটি লাইভ বেকারিকেও জরিমানা করা হয়েছে। ভেজাল বিস্কুট ও ব্রেড তৈরির দায়ে কয়েকটি বেকারিও সিলগালা করা হয়। এছাড়া লালদিঘিরপাড় মার্কেটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত।
 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিংহ জানান, যে জায়গায় অভিযান হচ্ছে সেখানেই ভেজাল মিলছে। কেউ আসলের মোড়কে নকল পণ্য বিক্রি করছে, কেউ অফারের নামে প্রতারণা করছে। কেউ আবার ক্ষতিকারক উপাদান মিশিয়ে খাবার তৈরি করছে। অনেক সময় ভেজালের মধ্যে ক্রেতারা আসল-নকল চিহ্নিত করতেই পারেন না। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারের অভিযান চলমান রয়েছে।
 

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, খাবারে যেসব ক্যামিকেল বা অননুমোদিত উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে। খাবারে কাপড়ের রঙ, নানা রকম ক্যামিকেল, ভেজাল মসলা যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা খুবই ক্ষতির কারণ। এসব খাবার মানবদেহে ক্যানসার, কিডনি ও লিভার বিকল হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রকম জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ/এসডি-২১