ছবি: সিলেটভিউ
গত ৩ সপ্তাহ ধরে হবিগঞ্জে দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন দেউন্দি, লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও মিরতিংগা চা-বাগানের মজুরি বন্ধ রয়েছে। তিন সপ্তাহ যাবত চা-বাগান বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এর মধ্যে শিশু বৃদ্ধসহ অনেক শ্রমিকরাই অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
মজুরি বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বাগানে একের পর এক কর্মসূচি পালন করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিশাল মানববন্ধন করেছে চা শ্রমিকরা। পরে তারা হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে স্মারক লিপি প্রদান করে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
রবিবার দুপুরে তারা এই স্মারক লিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
স্মারক লিপিতে তারা উল্লেখ করেন- বাগান কর্তৃপক্ষ এরিয়ার বকেয়া পাওনার কিস্তির ৪ হাজার টাকা করে পাওনা রয়েছে। চার বাগানের জনপ্রতি মোট ৪ হাজার করে ৫ হাজার শ্রমিকের ২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। চা শ্রমিকদের মজুরি থেকে কর্তনকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড এর চাদা এবং মালিক পক্ষের অংশসহ মোট ৪৭ মাসের পিএফ চাদা পিএফ কার্যালয়ে জমা প্রদান না করার ফলে শ্রমিকগণ পিএফ শ্রমিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। বাগানে চিকিৎসা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। ওষুধসহ বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা সেবা। শ্রমিকদের বাসস্থান, ঘরবাড়ি, দরজা জানালা, ছাউনি তৈরী ও পুর্ন মেরামত ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
চা শ্রমিকরা বলেন- আমরা এই দেশের মানুষ। আমরা সারাদিন কষ্ট করে উপার্জন করি। কিন্তু আমাদের সামান্য এই উপার্জনের টাকা দেয়া তারা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আমরা সন্তানাদি নিয়ে কি খামু আর কি ভাবে বাচমু। তারা বলেন- আমাদের এখন চরম অসহাত্বের মাধ্যমে দিন কাটছে। আমরা চাই দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন- দেউন্দি টি কোম্পানির এমডি ও যারা পরিচালনা দায়িত্বে আছেন তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চা শ্রমিকদের হয়রাণি ও বঞ্চিত করছেন। অথচ আমাদের শ্রমিকরা রুদ বৃষ্টিতে টানা কাজ করে আসছে। তিনি বলেন- এত কষ্ট করে কাজ করলেও শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই বেহাল। তাই আমরা আমাদের নাগরিক সুবিধাটুকু চাই।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকির/ইকে-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.