প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৭ (সোমবার)
ওয়ার্ল্ড স্ট্যাবিলিটি বনাম ট্রাম্প ডেসটিনি !

ছবি: সংগৃহিত

সরাসরি প্রেসিডেণ্ট নির্বাচন না হলেও, আগামী ৩রা নভেম্বরের মিডটার্ম, সত্যিকার অর্থেই ট্রাম্পের পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারণ করবে। নিকট ইতিহাসে কোন মিডটার্ম নির্বাচন, আমেরিকার আভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয়ক্ষেত্রে এতো গুরুত্ব বহন করেনি। এই ইলেকশনে মিলিয়ন-মিলিয়ন ডলার শুধু প্রচারণাতেই ইনভেস্ট হচ্ছে, যা এমনকরে পূর্বে কখনও দেখা যায়নি।

 

হাউসে ৪৩৫টি আসনে ক্ষমতাধর রিপালিকান বনাম ডেমোক্র্যাট রেশিও ২১৮-২১৪ ! কিন্তু ৩ নভেম্বর সেই ইকুয়েশন বদলে ২১৮টিতে ডেমোক্র্যাট জেতার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

 

হার্বার্ড গবেষণায় প্রমাণিত সত্য, যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেণ্টের এপ্রোভাল রেটিং ৪০ এর নীচে থাকে, তখন তার দল হাউসে গড়ে ১০% সিট হাঁরে।ট্রাম্পের বর্তমান রেটিং তা থেকে অনেক নীচে ! সুতরাং প্রেসিডেণ্ট ট্রাম্প হাউসে হেঁরে ইম্পিচম্যান্টে পড়বার ঝুঁকিও শতভাগ।

 

সিনেটে দুই দলের বর্তমান রেশিও ৫৩-৪৭। রোটেশন ৩৩ এবং আরও দুটি স্টেট ফ্লোরিডা অহাইও এর বিশেষ দুটি আসন মিলে, সিনেটে মোট নির্বাচন হবে ৩৫টি আসনে। ভোটের ফলাফলে এবার ডেমোক্রেট, সিনেট আসন ৪৭ থেকে ৫১তে উন্নীত হবার সম্ভাবনা ৬০ ভাগের মতো। যদি মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল আল সাইদ সিনেটর পদে, রিপালিকান প্রার্থী মাইক রজারকে হারিয়ে দিতে পারেন, তাহলে সিনেটে ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্টতা অর্থাৎ ৫১টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা, ৬০ ভাগ থেকে ৮০ ভাগের উপরে উঠে যাবে।

 

এখানেই মিশিগান হয়ে গেছে এই নির্বাচনে, সিনেট পক্ষে রাখবার সবচেয়ে বড় দাবার গুটি কিংবা ইশ্কার টেক্কা। সেজন্যই গোটা আমেরিকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মিশিগান।

 

ট্রাম্পের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, তরুণদের প্রায় সত্তর শতাংসই এখন আর তাঁকে রাখতে চায়না, তরুণরা ভোট দিবে শুধু ট্রাম্পকে সায়েস্থা করতে ! আর সেজন্যই প্রেসিডেণ্ট ট্রাম্প মরিয়া হয়ে, আব্দুল আল সাইদকে ভোট যুদ্ধে পিছিয়ে দিয়ে, সিনেট রিপাবলিকানদের দখলে রাখতে, শত মিলিয়ন ডলার সাইদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোতে ব্যয় করে যাচ্ছেন। কারণ হাউস এবং সিনেট মিলে পুরো কংগ্রেস যদি ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকবেন তবে নখ দন্তহীন রুগ্ন দুর্বল এক বাঘ হয়ে।

 

শুধু তাই নয় পাশাপাশি থাকবে, হাউসে ইম্পিচম্যান্ট এনে থাকে সরিয়ে দেবার ভয় ! এখানেই শেষ নয়, সিনেটে বিল উত্তাপন হব রাশিয়া-ইউক্রেন, ইরান-ইজরাইল-আমেরিকা যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি-মূল্যস্ফীতি, জীবনমানের নিম্নমুখিতা, চিকিৎসা অনিশ্চয়তা, আমেরিকার অর্থনীতিকে স্থায়ী ডেব্থে নিমজ্জিত রাখাসহ, তার সকল অপকর্মের বিচারকার্য শুরুর এবং পুরো পরিবারের উপর এফবিআই কর্তৃক কঠিন ইন্টারোগেশন।

 

প্রেসিডেণ্ট ট্রাম্প মসনদে আসীন থেকেও কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। এটাই আমেরিকার গণতন্ত্রের ব্যতিক্রম সৌন্দর্য, সত্যিকার ভোটের পাওয়ার। আমেরিকার ইলেক্টোরাল ভোটিং সিস্টেম, পুরো বিশ্বে শুধু ইউনিকই নয় মৌর-সাইন্টিফিক। চেকস এন্ড ব্যালেন্সের এক অসাধারণ খেল !

 

এখানে উল্লেখ্য প্রথমবারের মতো প্রেসিডেণ্ট হয়ে, কভিড কালীন সময়ে মূল্যস্ফীতিসহ নানান অসন্তুষ্টির ভেতর, ২০২০ সালে দ্বিতীয়বার ইলেকশনে, জো-বাইডেনের সাথে হেরে গিয়ে, আমেরিকার গণতান্ত্রিক ইতিহাস ঐতিহ্যের তোয়াক্কা না করে, অনেক নাটকীয়তা ও জবরদখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে, অবশেষে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হোন প্রেসিডেণ্ট ট্রাম্প।

 

প্রথমবার দায়িত্ব পেয়ে মানুষের জীবন মান এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে, চরমভাবে জনপ্রিয়তা হারিয়ে জো-বাইডেন ও নিজে থেকেই দ্বিতীয়বারের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ২০২৪ সালে।

 

আবারও প্রেসিডেণ্ট হওয়ার দৌড়ে সাজার রায় মাথায় নিয়ে ট্রাম্প এগিয়ে আসেন এবং বাইডেনের জায়গায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যামেলা হারিসকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেণ্ট হয়ে যান মি. ট্রাম্প, শুধুমাত্র বাইডেনের উপর মানুষের ক্ষুব্ধতার কারণে।

 

সে সময় অনেক ডেমোক্র্যাট সমর্থকরাও কমলা হ্যারিসকে না দিয়ে রিপাবলিকান ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিল।

 

যা হবার তাই হয়েছে, পূনরায় প্রেসিডেণ্ট নির্বাচিত হয়ে এরোগেন্ট ট্রাম্প আরও অধিকতর বেপরোয়াভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরোবিশ্বকে যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মুখোমুখিতে ফেলে দিলেন। এমন কোন হীন কাজ নাই যা তিনি করেন নি।

 

এখানে একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো, গত অর্ধ শতাব্দীতে বিল ক্লিনটন ছিলেন আমেরিকার অন্যতম সফল প্রেসিডেণ্ট। তার আমলে আমেরিকার অর্থনীতি শুধু ভালই নয় সারপ্লাস ছিল। এরপর বারাক ওবামা ছিলেন মোটামুটি, কিন্তু তারপর আমেরিকা আর কোন ভাল শাসক পায়নি।


বিশ্বমঞ্চে আমেরিকান আধিপত্যের বড়ভাই সুলভ একটা ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্য ছিল। বিচারের নামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জোরপূর্বক তুলে আনবার ফলে, সেই সুন্দর অবস্থান থেকে কয়েকধাপ নিচে নামিয়ে ট্রাম্প শুধু যুদ্ধবাজই নয়, বরং দেশটিকে একটি মাস্তান রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন।

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান আমেরিকান প্রেসিডেন্সিকে তিনি একটি হাস্যরস ও তামাসার বস্ততে নামিয়ে এনেছেন।

 

৩রা নভেম্বর নির্বাচন পরবর্তী ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে আমেরিকা কোন পথে যাবে। প্রত্যাশা থাকবে, আমেরিকার সকল অন্ধকার দূর হোক, ফিরুক পুরোনো সৌন্দর্যে ! বিশ্ব ও হাসুক স্বাভাবিকতার হাসি, পূর্ণ স্বস্তির নিঃশ্বাসে!!!

 

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এবি/ইকে-০৪