ফোনের দোকানে গেলে প্রথম প্রশ্নগুলোর একটি হলো, ‘কত জিবি র্যাম?’ অনেকের ধারণা, র্যাম যত বেশি, ফোন তত দ্রুত। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনেও ৮ জিবি, ১২ জিবি বা ১৬ জিবি র্যামের কথা বড় করে লেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে র্যাম ফোনের গতির একটি অংশ মাত্র।
শুধু র্যাম দেখে ফোন কিনলে অনেক সময় স্মুথ পারফরম্যান্স পাওয়া যায় না। স্মার্টফোনের র্যাম নিয়ে আমাদের মাঝে যেসব ভুল ধারণা আছে সে সম্পর্কে এখান থেকে জেনে নিতে পারবেন।
র্যাম আসলে কী কাজ করে?
র্যাম হলো স্মার্টফোনের অস্থায়ী মেমােরি। মোবাইলফোনে যেসব অ্যাপ খুলে রাখা হয়, সেগুলো দ্রুত চালু রাখার জন্য র্যাম ব্যবহার হয়। যখন আমরা ফেসবুক থেকে ইউটিউবে যাই, তারপর আবার ফেসবুকে ফিরে আসি। র্যাম বেশি থাকলে ফেসবুক আগের জায়গা থেকেই খুলবে। কম থাকলে অ্যাপটি নতুন করে লোড হতে পারে। অর্থাৎ র্যাম মূলত একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালানোর সুবিধা দেয়, অ্যাপের নিজস্ব গতি বাড়ায় না।
প্রসেসরই ফোনের আসল মস্তিষ্ক
ফোনের গতি সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে প্রসেসরের ওপর। ৮ জিবি র্যামের একটি পুরোনো বা দুর্বল প্রসেসরের ফোনের চেয়ে ৬ জিবি র্যামের একটি আধুনিক প্রসেসরের ফোন অনেক সময় বেশি মসৃণ চলে। গেমিং, ভিডিও এডিটিং বা ক্যামেরা প্রসেসিংয়ের মতো ভারী কাজে প্রসেসরের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। তাই ফোন কেনার সময় স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি, অ্যাপল এ-সিরিজ বা এক্সিনোস চিপের মডেল ও জেনারেশন দেখে নেওয়া ভালো।
স্টোরেজের ধরনও গতি
অনেকে স্টোরেজকে শুধু জায়গার হিসাব মনে করেন, কিন্তু এর ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। ইএমএমসি স্টোরেজ ধীর, ইউএফএস ২.২ তার চেয়ে দ্রুত, আর ইউএফএস ৩.১ বা ৪.০ আরও দ্রুত। দ্রুত স্টোরেজে অ্যাপ খুলতে, গেম লোড হতে এবং ফাইল কপি করতে কম সময় লাগে। দামে কম ফোনে সাধারণত ধীর স্টোরেজ থাকে, আর বেশি র্যাম থাকলেও সেই ঘাটতি পুরোপুরি মেটে না।
সফটওয়্যার ও অপটিমাইজেশন
একই র্যামের দুটি ফোনও আলাদা গতিতে চলতে পারে, কারণ সফটওয়্যারের মান আলাদা। আইফোনে র্যাম তুলনামূলক কম থাকলেও সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ের কারণে ফোন মসৃণ চলে। অ্যান্ড্রয়েডে কিছু কাস্টম ইউআই বেশি ভারী, আর কিছু ফোনে অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ থাকে, যা র্যাম ও প্রসেসর দুটিই খেয়ে ফেলে। ফোন কেনার আগে রিভিউ দেখে সফটওয়্যারের অভিজ্ঞতা জেনে নেওয়া ভালো।
ভার্চুয়াল র্যামের সত্যি কথা
অনেক ফোনে ‘৮ জিবি + ৮ জিবি এক্সটেন্ডেড র্যাম’ লেখা থাকে। এটি আসলে ফোনের স্টোরেজের একটি অংশ, যা র্যামের মতো ব্যবহার করা হয়। স্টোরেজ র্যামের চেয়ে অনেক ধীর, তাই এটি আসল র্যামের বিকল্প নয়। কিছু ক্ষেত্রে একটু সুবিধা দিলেও, ভার্চুয়াল র্যাম দেখে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য কত র্যাম যথেষ্ট?
সাধারণ ব্যবহারে, মানে ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ ও অনলাইন ক্লাসের জন্য ৬ জিবি র্যামই বেশির ভাগ মানুষের জন্য যথেষ্ট। ৮ জিবি হলে আরও স্বস্তি পাওয়া যায়, বিশেষ করে একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালালে বা মাঝারি মানের গেম খেললে। ফ্রি ফায়ার বা পাবজির মতো গেমে নিয়মিত ভারী খেললে ৮ থেকে ১২ জিবি ভালো। ১৬ জিবি বা তার বেশি র্যাম বেশির ভাগ ব্যবহারকারীর কাজে আসে না। ৪ জিবি র্যামের ফোন এখনো চলে, তবে নতুন কেনার ক্ষেত্রে এটি এড়ানোই ভালো, কারণ অ্যাপ ও সফটওয়্যার ক্রমেই ভারী হচ্ছে।
ফোন কেনার আগে যা দেখবেন
শুধু র্যামের সংখ্যা না দেখে প্রসেসরের মডেল, স্টোরেজের ধরন, পর্দার রিফ্রেশ রেট, ব্যাটারি ও সফটওয়্যার আপডেটের নীতি দেখুন। ইউটিউবে ও টেক সাইটে ওই মডেলের বাস্তব ব্যবহারের রিভিউ পড়ুন। দোকানে গিয়ে ফোনটি নিজে চালিয়ে দেখুন, একাধিক অ্যাপ খুলে আবার ফিরে দেখুন কেমন লাগে। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সুবিধাও যাচাই করে নিন। মোবাইল ফোনের দাম প্রায়ই বদলায়, তাই কেনার আগে বর্তমান বাজারদর দেখে নেওয়াও জরুরি।
উল্লেখ্য, র্যাম গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একমাত্র নয়। ভালো প্রসেসর, দ্রুত স্টোরেজ ও সুন্দর সফটওয়্যার মিলেই ফোন দ্রুত ও মসৃণ চলে। বিজ্ঞাপনের বড় সংখ্যায় প্রভাবিত না হয়ে নিজের ব্যবহার অনুযায়ী ফোন বেছে নিন। তাহলে কম খরচেই ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.