প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:১৫ (বুধবার)
জকিগঞ্জ: ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাধনা ও তিন নদীর মোহনা

সপ্তাহজুড়ে অফিসে কাজ করতে করতে সময় কীভাবে চলে যায়, তা বোঝা দুষ্কর। ব্যস্ততার ফাঁকে কোথাও একটু ঘুরার ইচ্ছা হয়। এরে-ওরে বললাম, চলো কোথাও ঘুরতে যাই। কিন্তু না, কেউ রাজি হয়নি। প্রত্যেকেই নানানভাবে ব্যস্ত। শেষ পর্যন্ত মনে হলো অপেক্ষায় না থেকে নিজেকে সময় দিতে হবে। এই ভাবনা মাথায় নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম সিলেটের দূরবর্তী সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জের উদ্দেশ্যে। পরিকল্পনা ছিল, একদিনে যতটা সম্ভব ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জনপদটি ঘুরে দেখব। বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান দেখার আগ্রহে মন রোমাঞ্চিত।


শুক্রবার সকালে মোবাইলের এলার্মে ঘুম ভাঙলো। ফ্রেশ হলাম। নাস্তা খেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম কদমতলী বাসস্ট্যান্ডের দিকে। সেখান থেকে মাত্র ১৫০ টাকা দিয়ে শুরু হলো জকিগঞ্জ ট্যুর। শহরের কোলাহল থেকে বাস যতই সামনে এগুচ্ছে, ততোই বদলে যেতে থাকল চারপাশের দৃশ্যপট।


প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী সাজিদ রাজার বাড়ি

জকিগঞ্জের আটগ্রামে পৌঁছে প্রথমেই গেলাম সাজিদ রাজার বাড়ি। সুবিশাল বাড়ি। প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো বাড়িটি এখনো অনেকটাই অক্ষত। পুরোনো স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিলো, সময় যেনো এখানে খানিকটা থমকে গেছে। বাড়িটি দেখভালের জন্যে রাজার পরিবারের কেউ না থাকলেও রয়েছে কেয়ারটেকার। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, একসময় দেওয়ান হাছন রাজাসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির পদচারণা ও আড্ডায় মুখর ছিলো এই বাড়ি।


সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের সুরমা নদীর তীরে আটগ্রাম বাজারের সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহাসিক সাজিদ রাজার বাড়ি। এটি শুধু একটি পুরোনো জমিদারবাড়ি নয়, বরং জকিগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। যা দেখতে দেশবিদেশ থেকে পর্যটকরা ভিড় করেন।


বাড়ির পাশেই রয়েছে সাজিদ রাজার মসজিদ। প্রচলিত ইতিহাস ও স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও জানা যায়, ধর্মপ্রাণ সাজিদ রাজা ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে নিজের বাড়ির সামনে নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে মসজিদটি নির্মাণ করেন। কালক্রমে এটি ‘সাজিদ রাজার মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। স্থানীয়ভাবে মসজিদটি ‘আটগ্রাম বড় মসজিদ’ নামেও বেশ পরিচিত।


পিলার ও গম্বুজের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদটির মূল স্থাপনা একটি উঁচু ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মুসল্লিদের ওঠানামার জন্য রয়েছে মজবুত সিঁড়ি। মসজিদটিতে মোট ১৪টি গম্বুজ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে পানির হাহাকার থেকে বাঁচতে মসজিদের পাশেই রাজা খনন করেন সুবিশাল দিঘি। বর্তমানে নামাজে আগত মুসল্লীগণ অজু করে থাকেন। সেই সাথে গোসল করে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বলা যায়, প্রায় তিন শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও মানুষকে প্রচণ্ড আকৃষ্ট করে।


মরমিসাধক শিতালং শাহ এঁর সমাধি

জুমার নামাজ আদায় করলাম বারঠাকুরী ইউনিয়নের কাশিরচক গ্রামের একটি মসজিদে। নামাজ শেষে ইঞ্জিনচালিত রিকশা (টমটম) চড়ে এগিয়ে গেলাম শিতালং মঞ্জিলের দিকে। রাস্তার পাশে ‘শীতলাঙ্গীয়া শাহী ঈদগাহ ও মাদ্রাসা’ লেখা সাইনবোর্ড চোখে পড়ল। সেই পথ ধরেই ভেতরে এগিয়ে গেলাম।


এখানেই শায়িত আছেন অষ্টাদশ শতকের প্রখ্যাত সুফি সাধক ও মরমি কবি শিতালং শাহ। এই প্রথম তার কবরের ফলকের লিখা থেকে জানতে পারলাম তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ ছলীম উল্লাহ। সিলেট অঞ্চলে (করিমগঞ্জ, ভারত) তাঁর জন্ম। আধ্যাত্মিক সাধনা ও মরমি সংগীতের মধ্য দিয়ে তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর সমাধি জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নে অবস্থিত। সমাধির পাশে রয়েছে মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।


প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রে এই সুফি সাধকে গানের ব্যবহার করেছেন। এরমধ্যে শিতালং শাহ এঁর মরমি গানের কয়েকটি লাইন মনে পড়ে গেল—
‘শুয়া উড়িল উড়িল জীবেরও জীবন, শুয়া উড়িল রে
আরলাম আকানে ছিলা আনন্দিত মন
ভবে আসি পিঞ্জরাতে হইলা বন্ধন।’


কবির এই কথাগুলো যেনো মানুষের জীবন, আত্মা আর পার্থিব জীবনের এক গভীর দর্শন তুলে ধরে। কবর জিয়ারত করলাম। তারপর সমাধির পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলাম।


তিন নদীর মোহনায় প্রকৃতির গান

শিতালং শাহ এঁর সমাধিস্থল থেকে পাঁচ-সাত মিনিট হাঁটলেই পৌঁছানো যায় তিন নদীর মোহনায়। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি ‘তি-গাঙ্গা’ নামে সুপরিচিত। জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের আমলশীদ গ্রামে অবস্থিত এই স্থানটি নদীপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অনন্য।


ভারত থেকে প্রবাহিত বরাক নদী এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বিভক্ত হয়েছে। অতঃপর তিন নদীর এই মিলনস্থল সৃষ্টি করেছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। নদীর বিস্তৃত জলরাশি, হিমশীতল বাতাস আর খোলা নীল আকাশ। সব মিলিয়ে জায়গাটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর।


মোহনায় গিয়ে দেখলাম, স্থানীয় মানুষজন ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জেলেরা বড়শি ফেলে মাছ ধরছেন। কেউ ছাতা মাথায় দিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে আছেন। কেউ আবার মাছ ধরার অপেক্ষায় ছিফ ফেলে নদীর জলে তাকিয়ে আছেন। কথা বলে জানা গেল, দেশীয় বাইম, বোয়ালসহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় নদীতে।


নদীর পাড়ে ছোট্ট একটি চা’য়ের টং দোকান থেকে এককাপ রং চা নিলাম। নদীর দিকে তাকিয়ে চা’য়ে চুমুক দিতেই সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো। কিছু জায়গা আছে, যেখানে খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। শুধু বসে থাকতে হয়, চারপাশ দেখতে হয় আর প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে উজাড় করে দিতে হয়। তিন নদীর মোহনা তেমনই একটি জায়গা।


মোহনার পাশেই সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে রয়েছে ঐতিহাসিক বারঠাকুরী গায়েবি দীঘি। তবে কালের বিবর্তনে দীঘিটির আর দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই। সেখানে এখন বিস্তৃত কৃষিজমি। ইতিহাসের এমন অনেক নিদর্শন আছে যা, সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে। শুধু থেকে গেছে কেবল মানুষের স্মৃতি ও জনশ্রুতি।


কুশিয়ারার তীরে জকিগঞ্জ কাস্টমস ঘাট

তিন নদীর মোহনা থেকে ফিরে কিছু সময়ের জন্য বসলাম জকিগঞ্জ বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে। খাওয়াদাওয়া শেষ করে বিকেলটা উপভোগ করতে আবারও বেরিয়ে পড়লাম। গন্তব্য জকিগঞ্জ কাস্টমস ঘাট।


কুশিয়ারা নদীর তীরঘেঁষা স্থানটি বেশ মনোরম। এখান থেকে নদীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ওপারে ভারতের করিমগঞ্জও দেখা যায়। নদীপথে নৌকায় মানুষজনের পারাপারের দৃশ্য চোখে পড়ে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় জায়গাটির রয়েছে আলাদা ভৌগোলিক গুরুত্ব।


বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগমুহূর্তে ঘাটে গিয়ে দেখলাম, ছোটছোট শিশুরা ঘুড়ি উড়াচ্ছে। দৃশ্যটি বেশ উপভোগ্য। ঘুড়ির নাটাই বাংলাদেশের মাটিতে। অথচ ঘুড়ি উড়ছে ভারতের আকাশে! সীমান্তের দুই পাশের আকাশ ঘুড়ির সুতোয় বাঁধা। এমন দৃশ্য সহজেই মন কেড়ে নেয়। স্মরণ করিয়ে দেয় দুরন্ত শৈশবকেও।


স্থানীয় মানুষজনের কাছেও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকেই এখানে অবসর সময় কাটাতে আসেন। নদীর শান্ত পরিবেশ, খোলা আকাশ আর ওপারের ভূখণ্ডের দৃশ্য দেখতে। সব মিলিয়ে জকিগঞ্জ কাস্টমস ঘাট হতে পারে বিকেলের সময় কাটানোর চমৎকার একটি গন্তব্য। তবে এই জায়গাটি ভ্রমণ শেষে মনে হয়েছে, অবশ্যই চারপাশটাকে আরও পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
 

ফুলতলি সাহেবের স্মৃতিবিজড়িত আঙিনা

ঘড়ির কাঁটা তখন সন্ধ্যার দিকে এগোচ্ছে। সূর্যও প্রায় অস্তাচলে, যায় যায়। জকিগঞ্জ বাজার থেকে দশসিটা নামে পরিচিত একধরনের সিএনজিচালিত গাড়িতে চড়ে রওনা হলাম রতনগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে যেতে হবে ফুলতলি গ্রামে।


আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলি (রহ.) (১৯১৩–২০০৮) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, আলেম, হাদিস বিশারদ ও সুফি সাধক। তিনি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি জকিগঞ্জের ফুলতলি গ্রামের কথা। সেই সঙ্গে ফুলতলি সাহেবের নামও। কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি। এবারই প্রথম তাঁর স্মৃতিবিজড়িত আঙিনায় পা রাখলাম।


সেখানে পৌঁছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। এরপর তাঁর কবর জিয়ারত করে আশপাশটা ঘুরে দেখলাম। বিশাল পুকুর, মসজিদ ও মাদ্রাসা ঘিরে এক সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের অজু করার দৃশ্য চোখে পড়ল। চারপাশ যেন সাজানো-গোছানো বাগান। মাদ্রাসায় রয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে অনেক এতিম শিক্ষার্থীও এখানে পড়াশোনা করছে।


ফুলতলি সাহেব (রহ.) দেশ-বিদেশে কোরআনের শুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা এবং ইসলামী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলি ট্রাস্টসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এখনো চলমান। ইসলামী সাহিত্যেও রয়েছে তাঁর একাধিক গ্রন্থ। ২০০৮ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জকিগঞ্জের ফুলতলি গ্রামে নিজ প্রতিষ্ঠিত মসজিদের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।


তাঁর স্মৃতিবিজড়িত আঙিনায় দাঁড়িয়ে মনে হলো, একজন মানুষের কর্ম ও আদর্শ কীভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এরই একটি বাস্তব উদাহরণ উক্ত প্রতিষ্ঠান।


একাকী ভ্রমণ

একদিনের জকিগঞ্জ ভ্রমণ সিলেট থেকে যাত্রা করে শুরু হয়েছিল আটগ্রাম দিয়ে। আর শেষ হলো ফুলতলি গ্রামে পৌঁছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে দেখলাম ইতিহাস, ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা আর প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিলেটের বৃহৎ একটি উপজেলা। সাজিদ রাজার বাড়ি ও মসজিদের প্রাচীন স্থাপত্য, শিতালং শাহ এঁর মরমি দর্শন, তিন নদীর মোহনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কাস্টমস ঘাটের সীমান্তঘেঁষা জীবন এবং ফুলতলি সাহেবের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান। সবকিছুই ভ্রমণকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।


আমরা অনেক সময় কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করি কিন্তু সঙ্গী খুঁজতে গিয়ে আর যাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা প্রয়োজন। সব সময় দলবেঁধে ঘুরতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো একা বেরিয়ে পড়াও হতে পারে জীবনের সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা।


মাত্র আটশত টাকা খরচে জকিগঞ্জ ভ্রমণ আমাকে সেই উপলব্ধিটাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল। ব্যস্ত জীবনের বাইরে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো। নতুন কিছু জায়গা দেখা। অচেনা মানুষের সঙ্গে কথা বলা আর ইতিহাসের কাছাকাছি যাওয়ার আনন্দ সত্যিই অন্য রকম।


হয়তো আবারও কোনো এক শুক্রবার সকালে বেরিয়ে পড়ব অন্য কোনো অচেনা জনপদের উদ্দেশ্যে। মানুষের কথা শুনতে। মানুষের ইতিহাস জানতে। কারণ, আশপাশে দেখার মতো অনেক কিছু এখনো বাকি।



লেখক: ইমরান ইমন, এক্সিকিউটিভ অফিসার, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। প্রাক্তন সভাপতি, এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি।