দীর্ঘ ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রনারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র শেখর দাশ।
শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নয়, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে বাড়ি বাড়ি ছুটে যাওয়াসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি অর্জন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা।
তাঁর অবসরজনিত বিদায়কে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
এতে সার্বিক সহযোগিতা করে রনারচর গ্রামের সামাজিক সংগঠন হাসিখুশী ক্লাব ও অরুণ উদয় যুব সংঘ।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও রাজানগর কৃষ্ণচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ইন্সট্রাক্টর হরিমোহন রায়।
শিক্ষক মঞ্জু দাস সঞ্চালনায় বিদায়ী শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জ্যোতিকা দাস ও শিক্ষিকা শান্তনা দে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- রাজানগর কৃষ্ণচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধেশ চন্দ্র পুরকায়স্থ, সহকারী প্রধান শিক্ষক চন্দ্র সেন তালুকদার, সাবেক সহকারী শিক্ষক মনমোহন দাস, রঞ্জন চন্দ্র সরকার, চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত চন্দ্র দাস, চিতলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল দে, সতানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিবাস চন্দ্র দাস, মেঘনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতিকান্ত দাস এবং কার্তিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতিরিন্দ্র সরকার, বরঘর স: প্রা: বি প্রধান শিক্ষক চন্দ্র বিনোদ দাস।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মোহনলাল দাস, প্রদীপ রঞ্জন দাস ও তীলক চন্দ্র দাস, হাসিখুশী ক্লাবের সভাপতি ঝলক চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জানা যায়, চন্দ্র শেখর দাশ ১৯৯৪ সালের ১ জুন সহকারী শিক্ষক হিসেবে পুরন্দরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে স্বজনপুর ও কুঁচিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০২ সালের ২৫ জুন কুঁচিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রথম যোগদান করেন। এরপর ২০১০ সালের ২৪ মার্চ রনারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।কর্মজীবনে তিনি পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন, দরিদ্র ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা এবং ঝরে পড়া রোধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়ার মতো উদ্যোগ তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষ গড়ার মহান ব্রত। একজন আদর্শ শিক্ষক তাঁর জ্ঞান, মেধা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করেন। চন্দ্র শেখর দাশ দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর অবদান বিদ্যালয় ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, হাসিখুশী ক্লাব ও অরুণ উদয় যুব সংঘের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, মালা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ সময় তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অবসরজীবনের সুখ-শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/হিল্লোল/এসডি-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.