সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন ও বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন।
উপজেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নবাগত ইউএনও মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা জৈন্তাপুর উপজেলার বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে কৃষি খাতের অগ্রগতি, শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচসুবিধা নিশ্চিত করা, মহাসড়ক ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট নিরসন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।
উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকের সমস্যা সমাধান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সামনে যানবাহন পার্কিংয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলে ধরা হয়।
সভায় আরও উঠে আসে শুষ্ক মৌসুমে পাহাড় কাটা, কৃষিজমির মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং মহাসড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার আশপাশে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের বিষয়। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথাও জানান বক্তারা।
এ ছাড়া বেকারত্ব নিরসন ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি ও বালুমহালগুলো পরিবেশ ও প্রচলিত আইন মেনে বৈধ প্রক্রিয়ায় চালুর বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নবাগত ইউএনওর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন বলেন, জৈন্তাপুরের ১৭ পরগনার সামাজিক শৃঙ্খলা, মুরব্বিদের প্রতি সম্মান এবং সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও শিক্ষণীয়। এ ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মস্থলেও তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দেওয়া পরামর্শ এবং উপজেলার সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তিনি গুরুত্বসহকারে নোট করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে এসব সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন।
ইউএনও আরও বলেন, সব সমস্যার সমাধান হয়তো এককভাবে করা সম্ভব নয়। তবে সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ জন্য উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা, পরামর্শ ও আন্তরিক অংশগ্রহণ কামনা করেন তিনি। দায়িত্ব পালনের পথে তাঁর কোনো ভুল হলে তা ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন এবং জৈন্তাপুরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানের পথে এগিয়ে নিতে চান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এন ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানা, জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা, উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ১৭ পরগনা শালিস সমন্বয় কমিটির সভাপতি আবু জাফর মৌলা আবুল চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাফিজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল হক মুহিব, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুস শুক্কুর, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আলমগীর হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারোয়ার বিলাল, সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইমাম উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জৈন্তাপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ, তামাবিল হাইওয়ে পুলিশ, সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) ক্যাম্প কমান্ডার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি, বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাহিদ/এসডি-১৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.