সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ডের উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব এলাকার নাগরিকদের নগরের অন্যান্য এলাকার মতো সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এরই অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুরমার ছয়টি ওয়ার্ডে ৪০৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান, দরপত্র সম্পন্ন ও পরিকল্পনাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকায় ৭৩ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোতে সড়ক, ড্রেন ও স্ট্রিটলাইট স্থাপনের অনেক কাজ শেষ হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে। আরও কিছু প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ সুরমার ২৮, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২নং ওয়ার্ডের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও টেকসইকরণ এবং হোল্ডিং ট্যাক্স চালুসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক জানান, দক্ষিণ সুরমার ছয়টি ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে ৭৩ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ৬৩ কোটি টাকার কাজ চলমান। এ ছাড়া ১৩৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আরও ২০৬ কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিটলাইট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।
কুচাই এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সভায় আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নের অংশবিশেষ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দারাও নগরের অন্য এলাকার মতো সমান নাগরিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে এর সঙ্গে নতুন করে আরও ১৫টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। তবে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়েনি। অথচ নিজস্ব আয় থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা পরিচালনা করতে হয়। তাই নগরের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার পরিধি বাড়াতে নিজস্ব আয় বৃদ্ধি জরুরি। এ জন্য তিনি নগরবাসীকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সিসিকের সচিব মো. আশিক নূরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় সিসিকের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) সুমন চন্দ্র দাশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, প্রধান অ্যাসেসর মো. আব্দুল বাছিত, ট্যাক্সেশন অফিসার মো. জামিলুর রহমানসহ সিসিকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.