প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৫ (বৃহস্পতিবার)
৫০০ টাকা মুচলেকায় পরীমনির জামিন

মারধর, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।


বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। যদিও পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।


ওইদিন পরীমনির আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি জানান, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।


পরোয়ানা জারির একদিন পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে হাজির হন পরীমনি। বেলা ১১টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে একটি সাদা গাড়ির ভেতরে তাকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

এ সময় তার গাড়ির দুপাশে কালো পোশাকে অবস্থান করছিলেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তারা গাড়ির আশপাশে থাকা আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন। পরীমনির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত এলাকায় উৎসুক মানুষের জটলা তৈরি হয়।


ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেদিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।


মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দেয়। অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।


মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে পরীমনি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বাদীর বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে গালমন্দ ও মারধর করা হয় এবং একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ক্লাবে ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগও আনা হয়।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক