ছবি: সিলেট ভিউ।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে লিডিং ইউনিভার্সিটি ট্যুরিস্ট ক্লাব আয়োজিত ষষ্ঠ পর্যটন মেলা-২০২৬। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ মেলার সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ রাগীব আলী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হামিদ। তিনি টেকসই পর্যটনের বিভিন্ন দিক ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান এবং ট্যুরিস্ট ক্লাবের উপদেষ্টা মো. সাজেদুল ইসলাম সরকারের সমন্বয়ে ‘TRAVEL JAZZ Volume-4’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এবারের মেলার পর্যটনবিষয়ক দূত (ট্যুরিজম অ্যাম্বাসেডর) ছিলেন বাংলাদেশের পর্যটনবিষয়ক স্টোরিটেলার শফিউল আযম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোহরা জামিন জোহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ সিলেট অঞ্চলে পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তাঁরা আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে পর্যটনশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এ খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।’
বক্তারা বলেন, ‘সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার অন্যতম প্রধান উপাদান। তবে এ সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবার মান বাড়াতে হবে। পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পর্যটন মেলা মানুষের মধ্যে ভ্রমণ সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে সিলেটের পর্যটনশিল্প আরও এগিয়ে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন ড. মো. রেজাউল করিম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ কবির আহমেদ, সুজুকি বাংলাদেশের সিএও মোশাররফ খান কালাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং ট্যুরিস্ট ক্লাবের সদস্যরা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.