বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতির মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় ৭ নভেম্বরের চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক। এই চেতনা ধারণ করেই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে সিলেট রেজিস্ট্রারী মাঠে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ, সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠন, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সরকারের সময়ে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। নারীশিক্ষার প্রসার, শিক্ষা খাতে উদ্যোগ, গ্রামীণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেম। বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ত্যাগ দেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেকে দেশপ্রেম, দৃঢ়তা ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারেক রহমান আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে। তাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশাকে ধারণ করে সবাইকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি লে. অধ্যাপক মো : মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শিহাব উদ্দিন আহমেদ শিহাব ও সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম বাবুর যৌথ সঞ্চালনায় সহ সভাপতি রাসেল মাহবুবের স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ ক্ষুদ্র ঋণ ও কুটিরশিল্প বিষয়ক সম্পাদক এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য সালেহ আহমদ খসরু।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্রঋণ ও কুটিরশিল্প বিষয়ক সম্পাদক এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব ও আহ্বানে আমরা দেশকে স্বাধীন করতে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলোতে আমরা প্রত্যক্ষভাবে লড়াই করেছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি। তাই এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের অজানা নয়।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশকে অস্থিতিশীল করে রেখেছিল। দেশের মানুষকে নানা সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। তাই দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার সবসময় অটুট থাকবে।
বিএনপি কানাইঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন, সিলেট জেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আল আসলাম মুমিন, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মিফতাহুল কবির মিফতাহ , জেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন বিলাল, মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি এমদাদুল হক স্বপন, মহানগর তাতীদলের সদস্য সচিব আমিনুল হক বেলাল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র সহ সভাপতি আক্তার হোসেন ভুইঁয়া মিন্টু, সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, সহ সভাপতি শফিকুর রহমান টুটুল, এম এ রহিম, নুরুল হুদা চৌধুরী মিফতাহ, জামাল আহমদ, হারুন অর রশীদ সরকার, যুগ্ম সম্পাদক রায়হাদ বক্স রাক্কু, মহিলা সম্পাদিকা আমাতা মাসুমা, খালিদুর রাহমান সাঈদ, জাহেদ আহমদ বাবু, সাহিদুল ইসলাম হৃদয়, স্বপন আহমদ, মজনুর রাহমান মজনু, সেলিম আহমদ, নাজমুল হক মিলাদ, আবু সাঈদ মো : তায়েফ, মারুফ আহমদ টিপু, সোহেল আহমদ, এনামুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, মো: নিলু আহমদ, নাজিম উদ্দিন নাজিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. খুররাম আহমেদ, সদস্য জুনায়েদ আহমদ জুনেদ, আব্দুল হাকিম, এম এ লতিফ, মাহবুবুর রহমান রুমী, রুপা মিয়া প্রমূখ।
সমাবেশ শেষে নগরীর রেজিস্ট্রারী মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে সিলেট জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা এবং পৌরসভা মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভিন্ন স্থরের নেতাকর্মীরা রংবেরংয়ের ব্যানার ও ফ্যাস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১০
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.