প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০১:০০ (সোমবার)
বাংলাদেশিদের জন্য যে সুখবর দিল গ্রিস

ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।

ইউরোপের দেশ গ্রিসে ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। দেশটির ভিসা আবেদন জমা দেওয়া এবং বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানের জন্য এখন আর ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। ঢাকার বনানীতে অবস্থিত গ্রিসের অনুমোদিত ভিসা আবেদনকেন্দ্র থেকেই এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন বাংলাদেশি আবেদনকারীরা। এতে ভিসার আবেদন করতে গিয়ে অতিরিক্ত যাতায়াত, সময় ও খরচের ঝামেলা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

গ্রিসের দূতাবাসের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ভিসা সেন্টার ওয়ার্ল্ড (জিভিসিডব্লিউ) ঢাকায় এই ভিসা আবেদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মূলত স্বল্পমেয়াদি শেনজেন ভিসা (টাইপ-সি) আবেদন করা যাচ্ছে। পর্যটন, ব্যবসায়িক কাজ, পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। এই ভিসার আওতায় শেনজেন অঞ্চলে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থানের সুযোগ রয়েছে।

 

ঢাকায় আবেদন জমা দেওয়ার ঠিকানা-
গ্রিসের ভিসার আবেদন গ্রহণের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রটি ঢাকার বনানীতে অবস্থিত। এর ঠিকানা—বোরাক মেহনুর, অষ্টম তলা, ৫১/বি কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

 

তবে আবেদন জমা দিতে সরাসরি কেন্দ্রে গেলেই হবে না। প্রথমে জিভিসিডব্লিউর ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা ও বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

 

ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নয়াদিল্লি-
ঢাকায় আবেদন ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার সুযোগ চালু হলেও ভিসা যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদনের চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকছে ভারতে অবস্থিত গ্রিসের দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগের হাতে। অর্থাৎ, আবেদনপত্র ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণের জন্য নয়াদিল্লিতে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারের জন্যও ডাকা হতে পারে।

 

তাই নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের আর আবেদন জমা দিতে বা বায়োমেট্রিক দিতে ভারতে যেতে হচ্ছে না ঠিকই, তবে ভিসা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত ঢাকায় নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আবেদন করলেই ভিসা পাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই।

 

আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়াকরণ-
জিভিসিডব্লিউর নির্দেশনা অনুযায়ী, ভ্রমণের নির্ধারিত তারিখের সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে গ্রিসের শেনজেন ভিসার আবেদন করা যাবে। সাধারণত ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই কিংবা সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা বেড়ে সর্বোচ্চ ৪৫ ক্যালেন্ডার দিন পর্যন্ত হতে পারে।

 

এছাড়া ঢাকায় জমা দেওয়া পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ শেষে নয়াদিল্লি থেকে ফেরত আসতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই ভ্রমণের পরিকল্পনা ও আবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা উচিত। 

 

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আর্থিক সামর্থ্য এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা জরুরি।

 

সব মিলিয়ে, গ্রিসের ভিসা আবেদন ও বায়োমেট্রিক কার্যক্রম ঢাকায় সম্পন্ন করার সুযোগ বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রত্যাশীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। বিশেষ করে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য ভারতে যাতায়াতের বাড়তি ব্যয় ও ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হওয়ায় নতুন এই ব্যবস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সূত্র: গ্রিসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নয়াদিল্লি মিশন এবং গ্লোবাল ভিসা সেন্টার ওয়ার্ল্ড (জিভিসিডব্লিউ)।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৮