প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০২:০০ (সোমবার)
অভিবাসীদের জন্য বড় সুযোগ দিচ্ছে কানাডা

ছবি: ফাইল ছবি।

আগামী তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা (পিআর) গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে কানাডার ফেডারেল সরকার। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে অভিবাসী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই অভিবাসন পরিকল্পনায় দক্ষ কর্মী ও অর্থনৈতিক অভিবাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার পুনর্মিলন, শরণার্থী এবং মানবিক বিবেচনায় অভিবাসনের সুযোগও বহাল রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

 

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে মোট স্থায়ী বাসিন্দার ৬৪ শতাংশের বেশি আসবেন অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির আওতায়। দক্ষ কর্মী, প্রাদেশিক মনোনয়ন কর্মসূচি (পিএনপি) এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।

 

এদিকে, কুইবেকের বাইরে ফরাসিভাষী অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ানোরও পরিকল্পনা নিয়েছে কানাডা সরকার। এ ক্ষেত্রে ২০২৭ সালে ফরাসিভাষী স্থায়ী বাসিন্দার হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৯ সালে ১২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের পাশাপাশি অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭০ হাজার নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থাকবেন।

 

অন্যদিকে, কানাডায় বর্তমানে অবস্থানরত অস্থায়ী বাসিন্দাদের একটি অংশকে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সর্বোচ্চ ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দাকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ তালিকায় থাকা ১ লাখ দক্ষ কর্মীকে এক্সপ্রেস এন্ট্রি ও প্রাদেশিক মনোনয়ন কর্মসূচির আওতায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

তবে তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের অর্থ এই নয় যে, আবেদন করলেই কেউ পিআর পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন। এটি মূলত কানাডা সরকারের আগামী তিন বছরের অভিবাসন পরিকল্পনা। স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত ও যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

 

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, কানাডায় স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে আগ্রহীদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় দক্ষতা যাচাই করে উপযুক্ত অভিবাসন কর্মসূচি নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন প্রস্তুত করলে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা সম্ভব। 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-১২