খ্যাতনামা গীতিকার, জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদ সিলেটের কৃতিসন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাওসার আহমেদ চৌধুরী মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি ক্লিনিকে তার মৃত্যু হয়৷ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে৷

১৯৪৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর সিলেটে কাওসার আহমেদ চৌধুরীর জন্ম। তাঁর বাবা মোসাহেদ চৌধুরী। কাওসার আহমেদ চৌধুরী ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। চারুকলায় পড়াশোনা করলেও সম্পন্ন করেননি। চলচ্চিত্রে নির্মাণে তাঁর আগ্রহ ছিল। একাধিক তথ্যচিত্রও তিনি নির্মাণ করেন। পেশাজীবনে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে চাকরি করেছেন।


কাওসার আহমেদ চৌধুরীর ছেলে আহমেদ শাফি চৌধুরী জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যা ও রক্তে সংক্রমণসহ শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়া তিনি দুইবার স্টোকও করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে গত বুধবার কাওসার আহমেদ চৌধুরী প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে তাকে নেওয়া হয় ধানমন্ডি ক্লিনিকে। মঙ্গলবার রাতে সেখানেই তিনি মারা যান।

কাওসার আহমেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে প্রথম আলো পত্রিকায় রাশিচক্র লিখতেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ব্যান্ড দল ও শিল্পীদের জন্য গান লিখে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। আইয়ুব বাচ্চু, সামিনা চৌধুরী, লাকী আখান্দ এবং নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর কণ্ঠে তার লেখা বেশ কিছু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে।

মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে কবিতা আর জ্যোতিশাস্ত্রের প্রতি অনুরাগ তৈরি হয় কাওসার আহমেদ চৌধুরীর। তবে ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে লাকী আখন্দের সঙ্গে পরিচয়ের পর তার গান লেখার প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত গান লিখতেন।

সদ্য প্রয়াত এই গীতিকারের লেখা গানের মধ্যে আইয়ুব বাচ্চুর ‘এই রুপালি গিটার’, লাকী আখন্দের ‘আমায় ডেকো না ফেরানো যাবে না’, কুমার বিশ্বজিতের ‘যেখানেই সীমান্ত তোমার সেখানেই বসন্ত আমার’, সামিনা চৌধুরীর ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে’ উল্লেখযোগ্য।

কাওসার আহমেদ চৌধুরীর জানাজা আগামীকাল সকাল নয়টায় ধানমন্ডির ত্বাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/পিডি