খ্যাতনামা গীতিকার, জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদ সিলেটের কৃতিসন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাওসার আহমেদ চৌধুরী। অনেক কালজয়ী গানের গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২২ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসাপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।


বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তাকে সমাহিত করা হয়েছে আজিমপুর কবরস্থানে। সকাল ৯টায় ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় কাওসার আহমেদ চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে আলোচনায় এসেছে কাওসার আহমেদ চৌধুরীকে ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টেপাধ্যায়ের লেখা একটি চিঠি। এই চিঠি তিনি লিখেছিলেন ১৯৯৫ সালের ২২ মে।

চিঠি পড়ে জানা যায়, সৌমিত্রকে চিঠি লিখেছিলেন কাওসার আহমেদ। সেই চিঠিরই জবাব দিয়েছিলেন অভিনেতা। তবে পূর্ণাঙ্গ চিঠি পাওয়া যায়নি। হাতে আসা এক পৃষ্ঠার চিঠিতে সৌমিত্র লিখেছেন, ‘প্রীতিভাজনেষু, আপনার চিঠি মাসখানেক আগেই পেয়েছিলাম। কিন্তু নিরতিশায় ব্যস্ততার জন্যে উত্তর দেওয়া হয়নি। তার উপর বাড়িতে অসুস্থ ছিলেন স্ত্রী, আমি নিজেও একটা ব্যাক পেইন নিয়ে বিব্রত ছিলাম। ব্যস্ততার একটা প্রধান কারণ ছিল নতুন একটি নাটকের প্রয়াস কর্ম। এটি আগামী ২৯ শে মে মঞ্চস্থ হবে আকাদেমি মঞ্চে। এই প্রথম একটি গ্রুপ থিয়েটারে আমি নাটক করছি। এই নাটকটি এ্যান্টন শ্যাফারের শ্ল্যুধ নাটক অবলম্বনে রচিত। দুজন মাত্র অভিনেতা, আমি ও কৌশিক সেন।

আপনার চিঠি পেয়ে বলাই বাহুল্য খুব ভালো লেগেছিল। ভবিষ্যতে যখন কোলকাতায় আসবেন তখন যদি দেখা হয় খুব ভালো লাগবে।

‘এক্ষণ’ পত্রিকার খবর জানতে চেয়েছেন। আমি গত কয়েক বছর আর যুগ্মসম্পাদকের দায়িত্বে নেই। নির্মাল্য একাই সম্পাদনা করে আসছে। তবে কাগজটা অনিয়মিত হয়ে এসেছে, অনেকদিনই। বর্তমানে নির্মাল্য দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাই আর প্রকাশিত হবে বলে মনে হচ্ছে না।

সিনেমা পরিচালনার কথা লিখেছেন। কোলকাতার চলচ্চিত্র শিল্প এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে আমার পছন্দসই ছবি করার জন্যে প্রযোজক পাওয়াই শক্ত। আর আমার মতো একলা লোকের পক্ষে দৌড়ঝাঁপ করে সরকারি অর্থ যোগাড় করাও মুশকিল। সর্বোপরি যে ৬/৮ মাস সম্পূর্ণ সময় দিতে হয় সিনেমা পরিচালনায় তা দিতে হলে আমার অভিনয় ইত্যাদির থেকে উপার্জন বন্ধ রাখতে হয়। সেটাও মুশকিল। তবে শখ তো থেকেই যায়। কি জানি হয়ত কোনোদিন অনুকূল সময় এসে যেতে পারে।’

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৫


সূত্র : জাগোনিউজ