ইউক্রেনের মাইকোলাইভ শহরের বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইউক্রেনে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। দেশটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের পোল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তারা বাংলাদেশিদের সতর্ক ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছেন, পোল্যান্ডে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে পোল্যান্ডে ভিসা পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এগুলোর ফরমালিটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের মধ্যে সে দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ছড়িয়েছে আতঙ্ক। তারা দেশ ছাড়তে মরিয়া। কিন্তু কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে অসহায় বোধ করছেন।


দেশটিতে বসবাস করা দুই বাংলাদেশির সঙ্গে কথা হয়েছে । তারা সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

ইউক্রেন-রাশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই নানা আলোচনা, পর্যালোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া।

দেশটিতে বাংলাদেশের একটি বহুজাতিক কোম্পানির একটি প্রকল্পে কাজ করছেন তৌহিদুল ইসলাম। থাকেন মাইকোলাইভ শহরে। তিনি জানিয়েছেন সেখানকার অবস্থা।

তৌহিদুল বলেন, ‘আমি এবং আমার স্ত্রী এখানে থাকি। সঙ্গে আমাদের একটি ছেলেসন্তানও আছে। সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

ইউক্রেনে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। দেশটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের পোল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তারা বাংলাদেশিদের সতর্ক ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছেন, পোল্যান্ডে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

তবে পোল্যান্ডে যাওয়া এখন সম্ভব নয়- বলছিলেন তৌহিদুল। বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে পোল্যান্ডে ভিসা পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এগুলোর ফরমালিটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’

তৌহিদুল জানান, ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ান ফেডারেশন এবং বেলারুশপন্থি রুশ সৈন্যরা হামলা চালায়। বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলীয় লুহানস্ক, সামি, খারকিভ, ছেরনিহিভ এবং ঝিতোমির অঞ্চলে হামলা চালানো হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ বিমানবন্দরে হামলা হয়। ইউক্রেন সরকার তাদের মতো করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিরোধের। তবে তারা যুদ্ধ চায় না।

তিনি বলেন, ‘অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ইউক্রেন ছাড়তে চাইলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। আবার ইউক্রেনকে তিন-চার দিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে।’

মাইকোলাইভ শহরের আরেক বাসিন্দা আমিনা খাতুন বলেন, ‘দূতাবাস থেকে গতকাল (বুধবার রাতে) একটি জুম মিটিং করা হয়েছিল। সে সময় আমাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। তারা সার্বিক বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশিদের সুরক্ষা এবং যারা ইউক্রেন ছাড়তে চায়, তাদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

‘তবে বর্তমানে ইউক্রেনে যে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে তাতে করে খুব বেশি আশা করতে পারছি না। আমি যে শহরে বসবাস করছি এখানে অনেক বাংলাদেশি আছেন, অনেকে পরিবার নিয়েও বসবাস করছেন। সবার মাঝেই একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। শুধু প্রবাসী নয়, ইউক্রেনের জনগণের মধ্যেও ভয়াবহ যুদ্ধের আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

ইউক্রেনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সুরক্ষার অনুরোধও জানিয়েছেন আমিনা। বলেন, ‘যেসব প্রবাসী দেশে ফিরে যেতে চান, তাদের যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

মাইকোলাইভ সিটির স্থানীয় বাসিন্দা আলেনা গ্রিগোরিয়েভার সঙ্গেও কথা হয়েছে । তিনি বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের ওপর অন্যায্যভাবে হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের হতাহতের ঘটনা জানতে পেরেছি। প্রেসিডেন্ট ভেলাদিমির জেলেনস্কি আমাদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন, মনে সাহস রাখতে বলছেন।’

গ্রিগোরিয়েভা বলেন, ‘আমাদের দেশের জনগণ বা প্রেসিডেন্ট কখনও যুদ্ধের পক্ষে নন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। তবে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়ে যাব। ইউক্রেন আবার ঘুরে দাঁড়াবে ।

জাতিসংঘ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় হতাশার কথাও জানান এই ইউক্রেনিয়ান। তিনি বলেন, ‘আমরা হতাশা অনুভব করছি যে জাতিসংঘ এখনও কেন সঠিক উদ্যোগ নিচ্ছে না রাশিয়ার বিরুদ্ধে।’

ইউক্রেন সীমান্তে কয়েক সপ্তাহ ধরেই লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন করে রেখেছে রাশিয়া। ট্যাংক ও কামানসহ যুদ্ধবিমানের বহরও ইউক্রেন সীমান্তে নিয়মিত টহলে রাখা হয়।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-০৭


সূত্র : নিউজবাংলা