আন্তর্জাতিক রাসায়নিক গবেষণা প্রতিযোগিতায় বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী রিফাত আব্দুল্লাহ। ‘সামার ইন্টার্ন কম্পিটিশন অব রিসার্চ অ্যাবস্ট্রাক্ট সাবমিশন’ শিরোনামে “আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স” (এআইসিএইচই) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন আমেরিকার জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কেন্না ভ্যালেনটিনে, দ্বিতীয় আর্জেন্টিনার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বুয়েন্স আয়ার্সের টমাস বারবনি এবং চতুর্থ হয়েছেন আমেরিকার দ্যা ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির হান্না লিঁও। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ওই শিক্ষার্থী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিফাত আব্দুল্লাহ বলেন, এ প্রতিযোগিতা সাধারণত তিন ধাপে হয়ে থাকে। প্রথমে রিসার্চ পেপার জমা দিতে হয়, পরে রিসার্চ পেপার বাচাই এবং ভাইবা হয় এবং তৃতীয় ধাপে ফাইনাল পর্ব হয়। এই শিক্ষার্থী গবেষণা নিয়ে বলেন, ‘চিনিকলের চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ’ বিষয়ক রিসার্চ পেপার ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর জমা দেই। তা গত ২ জানুয়ারি সিলেক্ট হয়েছে বলে এআইসিএইচই এর পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে পেপারের উপর ভাইভা দেই আমি এবং চারজনকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, সেখানে আমি তৃতীয় স্থান অর্জন করি।’
কি বিষয় নিয়ে গবেষণাপত্রটি করা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘কেরু অ্যান্ড কোং’ চিনিকলের চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল উৎপাদন করে। স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ অ্যালকোহল উৎপাদন হয়; গরমকালে তার পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। কিন্তু সেই অ্যালকোহল উৎপাদন গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করা সম্ভব, যেটা আমরা আমাদের গবেষণায় দেখিয়েছি। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন সিইপি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ।
অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ বলেন, চিনিকলে চিনি উৎপাদনের সময় চিনি ছাড়া দুই ধরণের কো-প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। তার মধ্যে চিটাগুড় একটি। এই চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল উৎপাদন করা হয়। দেশে বর্তমানে ঔষধ শিল্প, চিকিৎসা সেবা এবং গবেষণাগারে অ্যালকোহলের ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশে ‘কেরু অ্যান্ড কোং’ কেবলমাত্র অ্যালকোহল উৎপাদন করে। কিন্তু গরমের সময়ে সেখানে এই অ্যালকোহলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। এই উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো যায় এটা নিয়ে ২০১২ সাল থেকে কেরু অ্যান্ড কোং বিশেষজ্ঞ খোঁজেন। পরবর্তীতে আমরা সেখানে কাজ করি।
তিনি বলেন, এক বছরের প্রজেক্ট ছিল আমাদের। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি লেগে যায়। গত অক্টোবরে আমরা আমাদের কাজ শেষ করি এবং আমরা গবেষণায় সফল হই। তিনি আরও বলেন, চিটাগুড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ ‘ব্রিকস’ থাকে। সেই চিটাগুড়ে আমরা অনুজীব ব্যবহার করি। অনুজীবগুলো যেন সঠিকভাবে কাজ করে আমরা সেটা নিয়ে গবেষণা করি। এটা অ্যালকোহল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আমরা প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু আমাদের ল্যাবে সিস্টেম লসের পরিমাণ কম। কেরু অ্যান্ড কোং যদি চালু করে তাহলে বৃহৎ পরিসরে তার কিছু সিস্টেম লস থাকবে। সেই হিসেবে প্রায় ৩০ শতাংশের অধিক অ্যালকোহলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মাসুদ/পিডি




