সিলেটের বিশ্বনাথ সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীর ভর্তিতে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ফি, এতে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকারা।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (২৬ ফেব্রয়ারি) সকালে কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের তথ্য জানতে চাইলে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপর যান কলেজের অধ্যাপিকা ও ভর্তি কমিটির আহবায়ক রুকিয়া বেগম শেলী।


এদিকে গত কিছু দিন ধরে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেয়ার বিষয়ে উপজেলা ও পৌর এলাকার সর্বত্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

সরকারি কলেজের অধ্যাপিকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি আবার উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িতে অধিষ্ঠিত আছেন। তাই সাংবাদিকদের উপর তার রাগের মাত্রাটাও ছিলো একটু বেশি। তাছাড়া গত ২৩ ফেব্রুয়ারী অতিরিক্ত ফি আদায়ের ঘটনায় কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথেও তার বাকবিতন্ডা ও উত্তেজনা হয়েছে।

এর পরিধি এমন ছিলো যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে থানা পুলিশ ভূমিকা রাখতে হয়েছে।

ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি ফি নিচ্ছেন দেড় হাজার টাকা, এক সাথে ৬ মাসের বেতন বাবদ আরো দেড় হাজার টাকা, এর সাথে গ্রন্থাগার ফি ৫০ টাকা, দরিদ্র তহবিল ফি ৫০ টাকা, ধর্মানুষ্ঠান ফি ১ শত টাকা, পরিচয়পত্র ফি ১ শত টাকা, রোভার স্কাউট ফি ৫০ টাকা, রেড-ক্রিসেন্ট ফি ২৪ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিদ্যুৎ ফি ৫০ টাকা, একাডেমিক ক্যালেন্ডার ফি ৫০ টাকা, বিবিধ ফি ২৬ টাকা, ভর্তি ফরম ফি ১৩০ টাকা ও ব্যাংক ফি (রকেট) ২০ টাকাসহ সর্বমোট ৩৭০০ টাকা।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবত অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগের তথ্য জানতে গেলে অধ্যাপিকা রুকিয়া বেগম শেলী সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, সাংবাদিকরা কোনো দিন কলেজে এসে আমাদের ভালো-মন্দ খরব নেন না। আর আজ আপনারা এসেছেন আমরা অতিরিক্ত ফি নিচ্ছি এমন মিথ্যা সংবাদ পেয়ে, আপনারা এখান থেকে চলে আসলেন। এবিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোনো প্রকার তথ্য বা কোন প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নই আমরা।

একথা বলার কিছু সময় পর তিনি (রুকিয়া) অতিরিক্ত ফি নিচ্ছেন না দাবি করে অধ্যাপিকা বলেন, সিলেটের অন্যান্য কলেজের চেয়ে বিশ্বনাথ সরকারি কলেজে কলেজে ফি কমই নিচ্ছেন। কলেজটি সরকারিকরণ করা হলেও তারা (কলেজ কর্তৃপক্ষ) কোনো প্রকাশ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। সব কিছুই পূর্বেই মতোই চলছে। শুধু ‘সরকারি’ নামটাই কলেজে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র।

বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মানিক মিয়া সাংবাদিকদের সাথে কলেজের অধ্যাপিকা ও ভর্তি কমিটির আহবায়ক রুকিয়া বেগম শেলীর এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিবিএ/এসডি-৩৪