রাজধানীর পল্লবীতে সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে গিয়ে অবরুদ্ধ ও কয়েক দফা হামলার শিকার হয়েছেন আলাউদ্দিন আল আজাদ নামে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক কর্মকর্তা।

রোববার সকাল ১১টায় পল্লবীর ১০ নম্বর বেনারসি পল্লী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। হামলার শিকার ওই কর্মকর্তা ডিএনসিসির অঞ্চল-২ এর ৩নং ওয়ার্ডের রোড ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত।


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টায় সিটি করপোরেশনের একটি পিকআপ ভ্যানে ৮-৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়ে ১০ নম্বর বেনারসি পল্লীর মূল সড়কে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ শুরু করেন রোড ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন। এ সময় তিনি নির্মাণসামগ্রী, ইট, কাঠসহ ৭-৮টি লোহার তৈরি টং দোকান ভেঙে সিটি করপোরেশনের পিকআপ ভ্যানে তোলেন। একপর্যায়ে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী টং দোকান মালিকরা উচ্ছেদে বাধা দেন। তারা উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেওয়া রোড ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিনের কাছে জানতে চান পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া তিনি কীভাবে উচ্ছেদ করতে আসলেন। আর উচ্ছেদের আগে কেন নোটিশ দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েন সিটি করপোরেশনের এই কর্মকর্তা। বিক্ষুদ্ধরা সিটি করপোরেশনের পিকআপ ভ্যান ও রোড ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিনকে অবরুদ্ধ করেন। তাকে কয়েক দফা শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করেন বিক্ষুদ্ধরা।

দুপুর ১২টায় ডিএনসিসি অঞ্চল-২ এর সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ও পল্লবী থানার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসেন। তারা উত্তেজিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগীরা সিটি করপোরেশনের পিকআপ ভ্যানে যেসব দোকানপাট ভেঙে তোলা হয়েছে, সেগুলো ফেরত চান। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উচ্ছেদে যেসব দোকানপাট ও নির্মাণসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে- তা ব্যবসায়ীদের কাছে ফেরত দিতে রাজি হন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট না দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রাবেয়া বলেন, প্রতি মাসে রোড ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন ফুটপাতের সব দোকানদারের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০০ টাকা চাঁদা নেন। এ মাসে ১০০০ টাকা চাঁদা বাড়িয়েছেন। টাকা না দেওয়ায় আমাদের দোকানপাট ভেঙে গাড়িতে তুলেছেন। তাই লোকজন উত্তেজিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মান্না বলেন, তাদের কাছে কোনো কাগজপত্র নেই। এভাবে কেউ অভিযানে আসে না। আর মূল সড়ক রেখে মহল্লার সড়কে কেন উচ্ছেদে এল সিটি করপোরেশন? এখানে তো কোনো যানজট নেই।

রোড ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন আজাদ বলেন, আমরা এ ধরনের উচ্ছেদ প্রায় সময় করি। এখানকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। আমরা ফিরে আসতে বাধ্য হই।

ডিএনসিসির ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, আজকে উচ্ছেদে একটু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য পুলিশ, ব্যবসায়ী ও সিটি করপোরেশনের লোকজন বসে বিষয়টি সমাধান করেছেন।

ডিএনসিসি অঞ্চল-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ১০ নম্বর বেনারশি পল্লীর রাস্তার ওপরে কিছু অবৈধ দোকানপাট ছিল- সেগুলো সরাতে বলা হয়েছিল। এটা কোনো উচ্ছেদ অভিযান না। ওখানে ৩নং ওয়ার্ডের রোড ইন্সপেক্টর গেছেন। সামান্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পরে টহল পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ভবিষ্যতে ওই স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

পল্লবী থানার এসআই শাহরিয়ার নাঈম বলেন, আমরা টহলে যাচ্ছিলাম। এখানে লোকজনের উত্তেজনা দেখতে পাই। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাই।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-১০


সূত্র : যুগান্তর