হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে রাস্তায় গার্ড ওয়াল নির্মাণের মাস না ফেরুতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ- ব্যাপক অনিয়মের কারণে ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যায়ে নির্মিত গার্ড ওয়ালটি ঠিকবে না দুই মাসও। যে কারণে কাজের শুরুতেই বাঁধা দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান সেই বাঁধা উপেক্ষা করেই কাজ সম্পন্ন করেছে।

তবে বরাদ্দ কমের কারণে পরিপূর্ণ কাজ না হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন উপজেলা সহকারী উপ প্রকৌশলী। আর নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন- সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবীগঞ্জ-রুদ্রাগ্রাম সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বাউসা ইউনিয়নের ৩০/৩৫টি গ্রামের কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত। সড়কটির উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে চলা শাখা বরাক নদী কারণে প্রায়ই বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেয়।

গত দুই বছর ধরে সড়কের নাদামপুর এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। একাধিকবার সেটিকে জোড়াতালি সংস্কার করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সবশেষ গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ওই অংশে গাইডওয়াল নির্মাণে জন্য ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৯ টাকা বরাদ্দ হয়।

গেল বছরের মে মাসে গার্ডওয়াল নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি। কাজ পায় মীম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। একই বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গার্ড ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে।

নির্মাণের শুরু থেকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। যে কারণে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ রাখতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আহবান জানান। এ সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীম এন্টারপ্রাইজ স্থানীয়দের বাঁধা উপেক্ষা করেই কাজ সম্পন্ন করেন।

এদিকে, গার্ডওয়াল নির্মাণের এক মাস না ফেরুতেই দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। স্থানীয়দের আশঙ্কা বৃষ্টির মৌসুমের শুরুতেই ফের ভেঙে পড়বে গার্ড ওয়াল ও সড়কের নাদামপুর অংশটি।

নাদামপুর বাজারের তরুণ ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বলেন- ‘আমার দোকানের সামনেই গার্ডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা জানি গার্ড ওয়ালে জিও ব্যাগ দেয়া হয়। কিন্তু এখানে দেওয়া হয়েছে চালার বস্তা (চটের বস্তা)। এছাড়া বস্তার ভেতরে বালু সিমেন্টের মিশ্রয়ন দেয়া কথা থাকলেও দেওয়া হইছে শুধু বালু। এখন এই বস্তাগুলো বৃষ্টিতে ভিজব আর রোধে শুকাইব। এতে বস্তা পছে ঙ্গ মাসের মধ্যে আবার ভাঙন দেখা দিব।’

নাদামপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি সিরাজুল ইসলাম বলেন- ‘গার্ড ওয়াল নির্মাণের সময় ঠিকাদার ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। যে কারণে কাজ চলাকালিন সময় গ্রামের মুরুব্বি ও যুবসমাজ কাজ বন্ধ রাখতে ঠিকাদারকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি গ্রামবাসীর কথা না শুনেই কাজ শেষ করেছে। এখন ১৫ দিন যেতে না যেতেই গার্ড ওয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।’

হুমায়ূন কবির আজিম বলেন- ‘বস্তার ভেতরে বালু আর সিমেন্টের মিশ্রণ দেয়ার কথা। যাতে বস্তা পঁচে গেলেও মিশ্রণটা থাকে। কিন্তু এখানে শুধু বালু দেওয়া হয়েচে। যে কারণে আগামী বৃষ্টির মৌসুমেই গাইডওয়ালটি ভেঙে পরবে। এছাড়া নিচে যে ওয়াল দেওয়া হয়েছে সেটিও একেবারে হালকা দেওয়া হয়েছে। যে কারণে এক মাস যেতে না যেতেই সেটিতেও বড় বড় ফাটল দেয়া দিয়েছে। আর এক সাম গেলেই এটি ভেঙে পরবে।’

তবে কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি মীম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার সজল মিয়া। তিনি বলেন- ‘শিডিউলে যেভাবে বলা হয়েছে আমরা সেইভাবেই কাজ করেছি। শিডিউলে শিখা ছিল চটে বস্তা, এখানে আমি জিও ব্যাগ নিয়ে আসি। যে কারণে এখানে আমার এক লক্ষ টাকা লস হয়েছে। এখন গাইডওয়ালের জয়েন্টে একটু ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে কোন ক্ষতি হবে না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন- ‘কাজের সময় স্থানীয় লোকজন আমার কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আমি সেটি না দেওয়ার কারণে আমার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।’

নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির সহকারি উপ প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন- যে কাজটি করা হয়েছে সেটিতে বরাদ্দ ছিল সাড়ে ১৫ লাখের মতো। অথচ এটির জন্য বাজেট প্রয়োজন ছিল কোটি টাকার ওপরে। তবে এই বাজেটের মধ্যে যে শিডিউল তৌরী করা হয়েচিল সেই মোতাবেক কাজ হয়েছে। এখানে কোনো ধরণের অনিয়ম হয়নি।’

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহিউদ্দিন বলেন- ‘কাজে অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় না দেয়া হবে না। আমি নিজে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করব। যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


সিলেটভিউ২৪ডটকম / কে.এস / ডি.আর