রাশিয়াকে উচ্চঝুঁকির এক যুদ্ধের পথে চালিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর জেরে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের হুমকির মধ্যে পড়েছে দেশটি। পুতিন হয়ে পড়েছেন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিচ্ছিন্ন। ইউক্রেনে হামলা শুরুর প্রাক্কালে প্রচারিত সাম্প্রতিক দুটি ছবিতে দেখা গেছে, ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গেও স্পষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বৈঠক করছেন রুশ নেতা।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযানের সর্বময় দায়িত্বে। কিন্তু তিনি এসব কাজে অনুগত একটি গোষ্ঠীর ওপরই সব সময় নির্ভর করেছেন, যাদের অনেকের পেশাগত জীবন শুরু হয় তাঁর মতোই রুশ নিরাপত্তা বিভাগে কাজের মধ্য দিয়ে।


সের্গেই শোইগু

পশ্চিমাদের হুমকি ও ইউক্রেনকে ‘নিরস্ত্র করার’ বুদ্ধি দেওয়া ব্যক্তি হলেন পুতিনের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাইবেরিয়ায় শিকার করতে ও মাছ ধরতে যেতে দেখা যায় তাঁকে। একসময় শোইগুকেই পুতিনের উত্তরসূরি ভাবা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে এক বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পাশে কিছুটা অপ্রস্তুতভাবেই বসে থাকতে দেখা গেছে। তাঁরা বসা ছিলেন পুতিন থেকে অনেক দূরে টেবিলের অন্য প্রান্তে। এত দূরে থাকা ব্যক্তির পক্ষে আসলেই কতটা ঘনিষ্ঠ হওয়া সম্ভব পুতিনের?

সশস্ত্র সংঘাত বিশেষজ্ঞ ভেরা মিরানোভা বলেন, ‘শোইগুরই কিয়েভ জয় করার কথা। কারণ তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ’

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের কৃতিত্ব শোইগুকে দেওয়া হয়। তিনি রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (জিআরইউ) দায়িত্বে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্যালিসবেরিতে ২০১৮ সালে রুশ সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপালকে রাসায়নিক প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে শোইগুর হাত রয়েছে বলে মনে করা হয়। স্ক্রিপালকে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনীরও গুপ্তচর মনে করত মস্কো। ২০২০ সালে রাশিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী নেতা আলেক্সাই নাভালনির ওপর সাইবেরিয়ায় চালানো আক্রমণেও শোইগুর হাত রয়েছে বলে মনে করা হয়। পুতিনের কৌশলগত কাজে শোইগুর ভূমিকা এখনো রয়েছে। রাশিয়ার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও লেখক আন্দ্রেই সোলদাতোভ জানান, ছবিতে যতই সমস্যাগ্রস্ত দেখাক, পুতিনের কাছে এখনো শোইগুর কথার গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘শোইগু শুধু সামরিক দায়িত্বেই নয়, তাঁর ওপর কিছু আদর্শিক দায়িত্বও রয়েছে। ’

জেনারেল ভ্যালেরি গেরেসিমভ

চিফ অব স্টাফ হিসেবে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর দায়িত্বে আছেন ভ্যালেরি গেরেসিমভ। সেই মানদণ্ড অনুযায়ী তাঁকে দৃশ্যপটে কমই দেখা গেছে। তবে ১৯৯৯ সালে চেচেন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার পর থেকে ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনামলে সামরিক পরিকল্পনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন তিনি। ইউক্রেন যুদ্ধেও তিনি সম্মুখসারিতে রয়েছেন। গত মাসে বেলারুশে সামরিক মহড়ার তদারকি করেন গেরেসিমভ। রাশিয়া বিশেষজ্ঞ মার্ক গেলেওত্তি তাঁকে ‘হাসিবর্জিত কঠিন আগ্রাসী’ ব্যক্তিত্বের মানুষ বলে অভিহিত করেন। ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের সময়ও গেরেসিমভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অনেকে মনে করেন, ইউক্রেন আগ্রাসন নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকা এবং সেনাদের দুর্বল মনোবলের কারণে জেনারেল গেরেসিমভ এখন পার্শ্বরেখায় চলে গেছেন।

কিন্তু আন্দ্রেই সোলদাতোভ বিশ্বাস করেন, পুতিন প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না এবং এই জায়গায়ই তাঁর (গেরেসিমভ) ভূমিকা।

নিকোলাই পাত্রুশেভ

কমিউনিস্ট শাসনকালে সত্তরের দশক থেকে পুতিনের অনুগত ছিলেন পাত্রুশেভ। তিনি পুতিনের প্রধান অনুগত ব্যক্তিদের একজন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রুশ রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক বেন নোবেল বলেন, ‘ব্যাপক আগ্রাসী মনোভাবের পাত্রুশেভ মনে করেন, পশ্চিমারা বছরের পর বছর ধরেই রাশিয়াকে ঘায়েল করতে উদ্যত।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-৩৭


সূত্র : বিবিসি