করোনা প্রতিরোধী টিকাদানে দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে সিলেট বিভাগ। মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ ভাগকে টিকার প্রথম ডোজ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা এখনো অর্জিত হয়নি। নগরে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলেও গ্রামে সেই হার অনেক কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচেতন লোকজন আগ্রহ নিয়ে টিকা দিচ্ছেন। কিন্তু ভাসমান ও বয়স্ক লোকজন, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিশু ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে আগ্রহ কম থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে জোরালো ক্যাম্পেইনের কারণে টিকা গ্রহিতার সংখ্যা বাড়ছে এবং শিগগিরই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদী তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ ৯ হাজার ৪৬৪ জন। শুরুতে মোট জনসংখ্যা ৭০ ভাগকে টিকার আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই হিসেবে টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৫ জনে।
পরবর্তীতে ১২ বছর উর্ধ্ব শিশুদের টিকার আওতায় আনা হলে টিকার আওতায় আসেন আরও ৮ লাখ ৪ হাজার ৯০১ জন শিশু। সবমিলিয়ে করোনা প্রতিরোধী টিকাদানের আওতায় আসেন বিভাগের ৯০ লাখ ১ হাজার ৫২৬ জন। কিন্তু গত ১ মার্চ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলা মিলিয়ে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৫ জনকে। যা মোট জনসংখ্যার ৬৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার জেলা। এই জেলার ১২ বছর উর্ধ্ব ১৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫৩ জনের মধ্যে ১ মার্চ পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৭ লাখ ২২ হাজার ১৮৭ জন। এই জেলায় মোট জনগোষ্ঠীর ৭৫.৯৪ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় এসেছেন।
আর সবচেয়ে কম টিকা নিয়েছেন সুনামগঞ্জের মানুষ। হাওরবেষ্টিত এই জেলায় টিকাদানের হার ৬১.৫৪ শতাংশ। বাকি দুই জেলার মধ্যে সিলেট জেলায় ৭০ শতাংশ ও হবিগঞ্জে ৬৮.৩১ শতাংশ লোক টিকা নিয়েছেন। টিকাগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা। ইতোমধ্যে মোট জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের উপরে মানুষ টিকা নিয়েছেন।
এছাড়া প্রথম ডোজের পাশাপাশি বিভাগের চার জেলার ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২২ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। পাশাপাশ চলছে বোস্টার ডোজেরও কার্যক্রম। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৮ লাখ ২১হাজার ৬৪৬ জন, সুনামগঞ্জে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৮৭ জন, হবিগঞ্জে ১১লাখ ৪ হাজার ৩৫৬ জন, মৌলভীবাজারে ১০ লাখ ৭০ হাজার ১৩৩ জন ও সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৬ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, গণটিকা পরিচালনা করায় নগরীর প্রায় সকল লোকজনই টিকার আওতায় চলে এসেছেন। কুসংস্কারসহ বিভিন্ন অজুহাতে কেউ কেউ টিকা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে কিছুদিনের মধ্যেই নগরীর প্রায় শতভাগ লোকজনকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, সিলেট বিভাগে মোট যে জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে এর মধ্যে একটি অংশ প্রবাসে থাকেন। যে কারণে টিকা গ্রহিতার হার ৭০ ভাগের কম দেখাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হচ্ছে বিভাগের চারজেলায় বসবাসকারী লোকজনের ৭০ ভাগের উপর লোকজনকে টিকা দেয়া হয়ে গেছে। ভাসমান মানুষ, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিশু ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা টিকা গ্রহণে পিছিয়ে থাকায় টিকাদানের হার কিছুটা কম। তবে সবার জন্য টিকা নিশ্চিতে কাজ চলছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ-১৬




