ইউক্রেনে সামরিক হামলাকে ‘ইউক্রেন অভিযান’ হিসেবে দেখা রাশিয়া কেন হামলা চালাচ্ছে তার একটা ব্যাখ্যা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে জানিয়েছে। এ বিষয়ে একাত্তরে বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে দেশটি। রবিবার রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার মান্টিটস্কি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর উদ্দেশে একটি খোলাচিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে ‘ইউক্রেন অভিযানে’ রাশিয়ার লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করে দূতাবাস। বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যে পরিস্থিতিতে ছিল, সেই একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন দোনেত্স্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের বাসিন্দারা।
রাশিয়ার ইউক্রেন দখলের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন রুশ রাষ্ট্রদূত। বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের বাসিন্দাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছি না। কারও ওপরে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।’
রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ন্যাটোর শীর্ষ সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি সমঝোতায় আসতে ৩০ বছর ধরে চেষ্টা করছে রাশিয়া। এ ক্ষেত্রে মস্কো বারবার প্রতারণার শিকার হয়েছে।’
ইউক্রেনে অভিযানের সময় রাশিয়ার হাতে বেশ কিছু নথি এসেছে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘নথিগুলো থেকে ইউক্রেনে অন্তত ৩০টি জীবাণু অস্ত্রের গবেষণাগার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে চিঠিতে। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সেখানে মারাত্মক জীবাণু অস্ত্রের গবেষণা চালানো হচ্ছিল। এ ছাড়া ইউক্রেনকে হাজার হাজার কাঁধে বহনযোগ্য রকেট লঞ্চারসহ মারণাস্ত্র সরবরাহের পথে হাঁটছিল পশ্চিমা দেশগুলো।
রাষ্ট্রদূত চিঠিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বলতে চাই, ইউক্রেন পরিস্থিতি ও সেখানে রাশিয়ার অভিযান নিয়ে বাংলাদেশি নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যমের পক্ষপাতমূলক পদক্ষেপকে সেসব শক্তির উদ্দেশ্যমূলক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করব, যারা সব সময় রাশিয়া ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে ধ্বংসের চেষ্টা করেছে।’
‘আশা করি, আমার এ খোলাচিঠির মাধ্যমে আপনাদের পাঠকেরা ইউক্রেনসংক্রান্ত ঘটনাবলি পশ্চিমাদের দৃষ্টির বাইরে গিয়ে দেখতে পাবেন।’ বলেন রাষ্ট্রদূত মান্টিটস্কি।
উল্লেখ্য, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেত্স্ক ও লুহানস্ক- এ দুই অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন ভ্লাদিমির পুতিন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিডি
সূত্র : ঢাকাটাইমস




