নেই আগের সোনালী দিন। আছে গৃহদাহ। ত্যাগী নেতাকর্মীর আধিক্যও এখন শূণ্যের কোটায়। পার্টি রশাতলে গেলেও সমস্যা নেই। দলীয় কর্মসূচি মূখ্য নয়; পদ-পদবি প্রাপ্তিই নেতাদের এখন বড় নেশা। দলীয় বড় পদ থাকলে সহজে মিলে সংসদ নির্বাচনের টিকিট। পদ-পদবি নিয়েই সব কোন্দল।  যে-কোন্দল এখন চরমে পৌঁছেছে। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার পর সিলেট জাতীয় পার্টির অবস্থা অরো শোচণীয় হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বুধবার (১৬ মার্চ) সিলেটে আসছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। মহাসচিবের আগমনে দলে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সেই চাঞ্চল্যের চেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে সিলেট জেলা ও মহানগর জাপায় আগামীতে কে বা কারা আসেছেন শীর্ষ পদগুলোতে। পদ পেতে ইতোমধ্যে কয়েকটি বলয়ও তৈরি হয়েছে।  সেই বলয়গুলো নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করতে হাইকমান্ডে লবিং-তদবির চালাচ্ছে।


তবে দলীয় সূত্র বলছে, সহসাই এবার কমিটি হচ্ছে না সিলেট জাপার। দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ ৫ জন শীর্ষ নেতা সিলেট থেকে গিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান জিএন কাদেরকে সিলেটের সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপন করবেন এবং হাইকমান্ড যাচাই-বাছাই করে এবার সিলেটের নতুন কমিটি দেবে।          

সূত্রমতে- সিলেট জাপায় বিভক্তির সৃষ্টি হয় ১৯৯৭ সাল থেকে। সেই সময় পুরনো অনেক নেতাই পার্টির তৎক্ষালীন চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ত্যাগ করে কেউ যোগ দেন অন্য দলে, আবার কেউ কেউ পাড়ি জমান প্রবাসে। এরপর থেকে প্রবাসী নতুন মুখ দেখা দেয় সিলেট জাতীয় পার্টিতে। কিন্তু হারিয়ে যায় পার্টির নিজস্ব গতি। প্রবাসী নেতারা বড় বড় পদ বাগিয়ে নিয়ে গড়ে তুলেন নিজস্ব বলয়-গ্রুপ। সময়ের ব্যবধানে তাদের দাপটে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন অনেক ত্যাগী-নেতাকর্মী।

মরহুম হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় বাড়ি খ্যাত সিলেটে এখন জাতীয় পার্টির ত্যাগী কর্মীর চেয়ে ‘মৌসুমি’ আর ‘শো অফ’ নেতার সংখ্যাই বেশি। এই নেতাদের অধিকাংশই পার্টিকে চাঙ্গা কিংবা হুসেইন এরশাদের আদর্শকে লালন করার চেয়ে বেশি ব্যস্ত কোন্দল আর গ্রুপিং নিয়ে। এতে সিলেটে নাকাল অবস্থা এ পার্টির।

এক সময় যুক্তরাজ্য প্রবাসী তিন নেতা কেন্দ্রীয় ও জেলা-মহানগরের বড় পদে আসীন হয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন সিলেট জাপাকে। তারা হলেন, দলের বর্তমান সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, এরশাদ থাকাকালীন তার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন ও যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। এর মধ্যে সেলিম উদ্দিন ও ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি হয়ে আরো শক্ত করে তুলেন তাদের নিজ নিজ বলয়।  শুরু হয় এ তিন নেতার মধ্যে নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। পরে এটি রূপ নেয় কোন্দল ও দ্বন্দ্বে। সেই দ্বন্দ্ব এখন তীব্র থেকে আরো তীব্রতর হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, এবার জেলা কমিটির জন্য কয়েকটি প্যানেল কেন্দ্রে জমা দেওয়া হবে। তবে জেলার সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সাবেক বিরোধী দলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন, দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উছমান আলী এবং সদ্য সাবেক আহ্বায়ক কুনু মিয়ার নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে। আর প্যানেল ভিত্তিক কমিটি কেন্দ্রে জমা দেবেন জেলা জাপার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন (সভাপতি) ও ইশরাকুল হোসেন শামীম (সাধারণ সম্পাদক), সেলিম উদ্দিন (সভাপতি), ইশরাকুল হোসেন শামীম (সাধারণ সম্পাদক), জেলার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী (সভাপতি) ও আহসান হাবিব মঈন (সাধারণ সম্পাদক)।  

এছাড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে জেলা পরিষদ সদস্য আশিক মিয়া ও যুব সংহতীয় কেন্দ্রীয় নেতা আলতাফুর রহমান আলতাফের নাম শুনা যাচ্ছে। মহানগরে সভাপতি হিসেবে সদ্য সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আব্দুশ শহীদ লসকর বশির ও আহমদ আলীর নাম আলোচিত হচ্ছে।    

সিলেটভিউ২৪ডটকম/শিপু