সুনামগঞ্জে ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘যমুনা ফাউন্ডেশন’ নামের এক ভুয়া এনজিও। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এ সংস্থার হিসাবরক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
গত সোমবার (১৪ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টায় সুনামগঞ্জের জামালাগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে অভিযান চালিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান নামের (৪৬) এক প্রতারককে গ্রেফতার করে র্যাব। মোস্তাফিজ গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার জাকর গ্রামের মৃত ওয়াসেল শেখের ছেলে। তার সঙ্গে আরও ২ জন জড়িত আছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান জানান, কিছুদিন থেকে সুনামগঞ্জের জামালাগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে ‘যমুনা ফাউন্ডেশন’ নামে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ এনজিও খুলে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের নামে স্থানীয় অন্ততঃ ২৫ জনের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। তাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হলে এক লাখে অগ্রিম ১১ হাজার জমা দিতে হয়। এভাবে স্থানীয় অন্তঃ ২৫ জনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
র্যাব জানায়, গত ১২ মার্চ মোহাম্মদ আলী নামের স্থানীয় একজন ‘যমুনা ফাউন্ডেশন’ থেকে ৩ লক্ষ ঋণ নিতে গেলে হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার কাছ থেকে লাখপ্রতি ১১ হাজার করে মোট ৩৩ হাজার টাকা অগ্রিম জমা রেখে পরবর্তীতে আসতে বলেন। কিন্তু পরবর্তীতে গিয়ে সেই অফিস বন্ধ পান মোহাম্মদ আলী। এমনকি মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় র্যাবের সুনামগঞ্জ ক্যাম্পে মোহাম্মদ আলী অভিযোগ দায়ের করলে গত সোমবার অভিযান চালিয়ে প্রতারক মোস্তাফিজকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে মোস্তাফিজ। এছাড়াও এ প্রতরণাকাণ্ডে আরও ২ জন জড়িত থাকার কথা জানান তিনি। তারা হচ্ছে- গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার দাশেরহাট গ্রামের রাজ্জাক মুনশির ছেলে হাবিবুর রহমান শফিক (৩৮) ও একই থানার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ফারুক মুনশি (৫২)।
এদিকে, মোস্তাফিজকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




