সিলেটের বিশ্বনাথে সড়ক প্রসস্থকরণ ও সংস্কার কাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সুহেল এন্টার প্রাইজ’র অবহেলায় ‘বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কে’ চলাচলের ক্ষেত্রে জনদূর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

কাজ শেষ করার নির্দিস্ট সময়কাল বৃদ্ধি করার পরও সড়কের কাজ শেষ না হওয়ার ফলে সোমবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে সড়কে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক দূর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠা পরিবহন শ্রমিকরা।


এদিকে সড়ক সংস্কার কাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতা ও অবহেলার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠার সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সরকারি দলের অনেক নেতা ‘বরাদ্ধ দিয়েও, সরকারের সমালোচনা করার মাধ্যম হয়ে উঠা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজেদের ফেসবুক একাউন্টে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন বাধ্য হয়েই।

সম্প্রতি ‘সরকারের উন্নয়নকে কৌশলে থামিয়ে দিয়ে, সাধারণ মানুষকে সরকারের প্রতি বিক্ষুব্ধ করে তুলতে বিএনপি-জামায়াতের আর প্রয়োজন নেই। এজন্য শুধু বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক সংস্কার কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানই (মেসার্স সুহেল এন্টার প্রাইজ) যথেষ্ট’ বলে নিজের ফেসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। আর এই স্ট্যাটাসে কমেন্ট করেন বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মহাব্বত আলী ানজর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন ‘খাঁটিকথা, মনের কথা. আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের কোন প্রতিবাদী নেতা নেই, আমাদের আছেন নিজ নিজ বলয় ভারী করতে চামছা জামাত-বিএনপির এজেন্সি কাউয়াদের (কাক) প্রিয় নেতা, প্রিয় ভাই হতে। আর আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী তৃনমুল পর্যায়ের কর্মীদের জন্য আছেন আল্লাহ’।

এমনি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক সংস্কার কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের (মেসার্স সুহেল এন্টার প্রাইজ) বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে প্রতিবাদি হয়ে উঠছেন সমাজের বিভিন্ন স্থরের ক্ষুব্ধ জনসাধারণ। যেকোনো সময় প্রকাশ্যে রাজপথে এর বিস্ফোরন ঘটতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিজ্ঞজনেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্বনাথ পৌর শহরের প্রান কেন্দ্র থেকে জগন্নাথপুর সীমানা পর্যন্ত মাত্র ১৩ কিলোমিটার সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর ধরে জনভোগান্তির এই কাজের শেষ দেখছেন না জনসাধারণ। এর ভেতরে একবার কাজের মেয়াদও শেষ হয়েছে। একই সাথে কাজ শুরু করে বিশ্বনাথের পার্শ্ববর্তি জগন্নাথপুর উপজেলার অংশের কাজ মেয়াদের ভেতরেই সম্পন্ন করেছেন সেই ঠিকাদার। অথচ বিশ্বনাথ উপজেলার অংশের ঠিকাদার ক্ষমতার অপব্যবহার করে, নিজের প্রভাব দেখিয়ে মেয়াদ বাড়িয়ে বছরের পর বছর পার করে ধীরগতিতে করছেন তার অংশের কাজ। মেয়াদ শেষ হওয়াকালীর সময়ের মধ্যেও বিশ্বনাথ অংশের ১৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ কিলোমিটার অংশের কাজও সম্পন্ন করতে পারেনি এই ঠিকাদার। সম্প্রতি ময়নাগঞ্জ বাজার থেকে বিশ^নাথের সীমানা ৮ ঘর পর্যন্ত ভালো সড়কের কার্পেটিং খোঁড়ে রাখা হয়েছে। ফলে ওই খোঁড়া কার্পেটিং অংশে মালবাহী ট্রাক ধেঁবে গিয়ে ৬/৭ ঘন্টা উভয় পাশে যাত্রীবাহী গাড়ি আটকে যানজট সৃষ্টি করছে। আর ওই যানজটে আটকে থেকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ।

এছাড়াও দুই বছরে চান্দশির কাপন থেকে বিশ্বনাথ পৌর শহর পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই কাজে জনবহুল এই সড়কটিতে চলাচল বন্ধ করা হয়েছে তিনবার, এরপরও শেষ হয়নি। আর একাধিক বার সড়কে চলাচল বন্ধ হওয়ার ফলে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় ব্যয় করে আরও অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে বিশ্বনাথ বাজারে প্রবেশ করতে হয়েছে বা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দু’বছরেরও বেশী সময় অন্তহীন ভোগান্তির শিকার হওয়া সিলেটের বিশ্বনাথ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার লাখ লাখ মানুষ দূর্ভোগের শেষ হবে কোন দিন তা কেউই জানেন না।

এব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সুহেল এন্টার প্রাইজ’র সত্ত্বাধিকারী সুহেল খানের সাথে গত কয়েক দিন ধরে সরাসরি বা মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও থাকে পাওয়া যায়নি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাইদ বলেন, আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর ভেতরে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

বিশ্বনাথের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নুশরাত জাহান বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের নেতাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কে বাস চলাচল বন্ধ না করার জন্য বলা হয়েছে। আর সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করার প্রদক্ষেপ নেওয়ায়।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এস এম নুনু মিয়া বলেন, নির্দিস্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিবিএ/এসডি-০৪