সকল প্রস্তুতি ছিল সম্পন্ন। সিলেট সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল। কিন্তু ২৪ ঘন্টা আগেই কেন্দ্র থেকে স্থগিত করা হয়েছে বিশাল এই আয়োজন। অভিযোগ ওঠেছে কাউন্সিলের ভোটার তালিকা নিয়ে। কয়েকটি উপজেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ ওঠেছে অনিয়মের।
আর এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্মেলন ও কাউন্সিল স্থগিত করে অভিযোগ তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। কমিটির ৭ সদস্যের মধ্যে চারজনই রাখা হয়েছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন থেকে। অর্থাৎ অভিভাবক সংগঠন বিএনপির নেতাদের অনিয়ম তদন্ত করবেন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পেলে তা তুলে ধরা হবে কেন্দ্রের কাছে। এরপর কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সম্মেলন ও কাউন্সিলের ব্যাপারে।
রবিবার কেন্দ্র থেকে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটির প্রধান করে দেয়া হয়েছে কেন্দ্রিয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে। কমিটির বাকি ৬ সদস্যের মধ্যে বিএনপি নেতা রয়েছেন দুই জন। তারা হলেন- মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ূম জালালী পংকী ও সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন।
কমিটির বাকি চারজন বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্ব রয়েছেন। তারা হলেন- সিলেট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামাল ও মহানগরের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহিদ সোহেল।
এই কমিটি গঠনের পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের দিয়ে অভিভাবক সংগঠনের নেতাদের অনিয়ম তদন্তের যৌক্তিকতা নিয়ে। এনিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রের কতিপয় নেতার স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা, অযোগ্যতা, দায়িত্বহীনতার কারণে জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল পন্ড হয়েছে। স্থানীয় কতিপয় নেতার কথামতো চলতে গিয়ে তারা তালগোল পাকিয়েছেন। প্রার্থীতা ও ভোটার নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একদিকে যেমনি দলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের হতাশ করেছেন, একইভাবে সম্মেলন স্থগিত করে তৃনমূলের নেতাকর্মীদেরও মাঝে দেখা দেয়া উচ্ছ্বাসে পানি ঢেলেছেন।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ-০১




