সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র পাথর কোয়ারি শ্রীপুরে অবস্থিত। সেখানে রয়েছে সীমান্তের জিরো লাইন। সে স্থান থেকে দিন-দুপুরে পাথর উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও শ্রীপুর কোয়ারি থেকে দেদারছে পাথ উত্তোলন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব। এছাড়াও সীমান্তের জিরো লাইন হতে পাথর উত্তোলনের ফলে যে কোনো মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র পাথর কোয়ারি শ্রীপুরে কয়েকশত শ্রমিক দিনের আলোতে ১২৮০নং আর্ন্তজাতিক পিলার এলাকা হতে বড় বড় গর্ত খনন করে দেদারছে পাথর উত্তোলন করে রাংপানি (শ্রীপুর) নদীর ধারে জড়ো করছেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নৌকাযোগে উত্তোলিত পাথর নিয়ে যাওয়া হয় আসামপাড়া, ৪নং বাংলাবাজার, আদর্শগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে।
পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এ প্রতিবেদককে জানান, ‘আমাদেরকে মহাজনেরা পাথর উত্তোলন করে নদীর পাশে ঝড়ো করতে বরেন। ১ নৌকা পরিমাণ পাথর উত্তোলন করলে আমরা ৮ শ টাকা মজুরি পাই। অবৈধ জেনেও পেটের দায়ে এমন কাজ করি।’
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আইনি ব্যবস্থা নেয় না? এমন প্রশ্নের শ্রমিকরা বলেন, মহাজনের সাথে বিজিবি’র লাইন রয়েছে। সেজন্য বিজিবি আমাদের কিছু বলে না।
কত টাকা লাইন দেওয়া হয় জানতে চাইলে তারা বলেন, সেটা আমাদের জানা নেই, মহাজনেরা দিয়ে আসছে।
সীমান্তের জিরো লাইনে পাথর উত্তোলন করতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সমস্যা করে কি-না প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, বিএসএফ বাঁধা দেয়। তারা দেখলে আমরা পালিয়ে যাই। এভাবে চোর-পুলিশ খেলার মধ্যে দিয়েই আমরা পাথর উত্তোলন করি।
কথা হয় একজন পাথর ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত ২মাস ধরে বন্ধ থাকা শ্রীপুর পাথর কোয়াীর হতে প্রভাবশালী একটি পাথরখেকু চক্র সীমান্তের ১২৮০ পিলার এলাকা হতে শ্রমিক দিয়ে পাথর উত্তোলন করে আসছে। সীমান্তে পাথর উত্তোলনের জন্য বিএসএফ বাঁধা দেয়। তারপরও পাথর উত্তোলন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে যে কোনো মুহুর্তে শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে বিএসএফ গুলি বর্ষণ করতে পারে।
এদিকে, শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর শুনে দ্রুত শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্পের ২জন সদস্য কোয়ারিতে পৌছে। শ্রমিকদের কোনো কিছু না বলে তারা প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তারা শ্রমিকদের নানা অসুবিধার কথা বলে যান।
একপর্যায় শ্রীপুর ক্যাম্পে চায়ের আমন্ত্রণ জানান ওই দুই বিজিবি সদস্য। প্রতিবেদকসহ অন্যান্য সংবাদকর্মীরা জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
জৈন্তাপুর ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই মো. ইসমাইল আলী এ বিষয়ে বলেন, আমি নিজেও শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতাম। কিন্তু শ্রীপুর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের অযোগ্য হওয়ায় সরকার ইজারা বাতিল করে। তারপর হতে কোয়ারি বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি একটি চক্র সীমান্তে জিরো লাইন অতিক্রম করে পাথর উত্তোলন করছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিজিবির ভূমিকা হতাশ করেছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, শ্রীপুর কোয়ারি সরকারিভাবে বন্ধ রয়েছে। কোয়ারির জিরো লাইন হতে পাথর উত্তোলন হচ্ছে বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল- বশিরুল ইসলাম বলেন, আমি জৈন্তাপুরে নতুন যোগদান করেছি। শ্রীপুর বন্ধ কোয়ারি হতে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি কেউ আমাকে অবগত করেনি। তবে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্পের সরকারি নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও কেউ রিসিভ করেননি। ফোন রিসিভ করেননি পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক এমরান হোসেনও। এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় তাঁকে একাধিকবার করা হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / হানিফ / ডালিম/এসডি-১৪




