(ফাইল ছবি)
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাওড় এলাকায় এক আলোচিত নাম এখলাছুর রহমান ফরাজী। তিনি উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের গিরিশনগর গ্রামের মৃত সামসুজ্জামান ফরাজীর ছেলে। ওই ইউনিয়নের ১৯ পিআইসির বরাদ্দ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১১ পিআইসির সভাপতি-সেক্রেটারি ওই এখলাছ ফরাজী ও তাঁর স্বজনরা।
পিআইসির তালিকায় দেখা গেছে, সুরমা ইউনিয়নে ১ নম্বর পিআইসির সভাপতি এখলাছুর রহমান ফরাজী। তাঁর ভাতিজা আতাউর রহমান ও ভাগ্নে মাসুদ ৩ নম্বর পিআইসির সভাপতি-সেক্রেটারি। তাঁর তালতো ভাই শহীদুল ইসলাম ৪ নম্বর পিআইসির সাধারণ সম্পাদক। ভাতিজা আব্দুল জলিল ৭ নম্বর পিআইসির সভাপতি। ভগ্নিপতি রমজান আলী ২৪ নম্বর পিআইসির সদস্য সচিব। ভাতিজা মোশারফ হোসেন ফরাজী ও তার ছোট ভাই ইলিয়াস ফরাজী ২৮ নম্বর পিআইসির সভাপতি-সদস্য সচিব। ভাতিজা কলিম উদ্দিন ৪০ নম্বর পিআইসির সদস্য সচিব। আরেক ভগ্নিপতি রহমত উল্লাহ মানিক ৪১ নম্বর পিআইসির সদস্য সচিব।
এদিকে ৬ নম্বর পিআইসিতে সভাপতি করা হয়েছে দৃষ্টিহীন জয়নাল আবেদীনকে। ৩৯ নম্বর পিআইসির সভাপতি মঈনুল ইসলামের নামের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বরটি রাজবাড়ী জেলার এক ব্যক্তির। ৪৩ নম্বর পিআইসির সদস্য সচিব চাঁন মিয়ার নামের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বারটিও এক মৃত ব্যক্তির।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে সকল বাঁধের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি কানলার হাওড় ঘুরে দেখা যায়, সময়সীমার পর শুরু হয়েছে ১ নাম্বার পিআইসির কাজ। বাঁধের গোঁড়ার কাদামাটি দিয়েই নির্মিত হচ্ছে বাঁধ।একাধিক বেড়িবাঁধে মাটি ভরাট, ঘাস লাগানো ও ধূর্মুজ করার বাকি।
২৩ মার্চ ফসল রক্ষাবাঁধের চলমান কাজ, পিআইসির অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ‘হাওড় বাঁচাও আন্দোলন’ কমিটি। এসময় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও কৃষকরা বলেন, 'হাওড়ের প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে এখলাছ ফরাজীর পরিবারকেন্দ্রীক পিআইসি দেওয়া হয়েছে। তবে এবার ফসলহানি ঘটলে এর দায়ভার নিতে হবে পাউবো ও প্রশাসনকেই।'
এছাড়া সোমবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় টেংরাটিলা বাজারে এসব দূর্নীতির প্রতিবাদে হাওড়ের কৃষকদের নিয়ে বৃহr মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ‘হাওড় বাঁচাও আন্দোলন’র সুরমা ইউনিয়ন কমিটি। এতে বক্তারা বলেন, ‘একই পরিবারে নামে-বেনামে ১১ পিআইসি দেওয়া হয়েছে। পাউবোর এসও আবু সায়েমের যোগসাজশে চিহ্নিত রাজাকারপুত্র এখলাছ ফরাজী বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকায় নিজের পকেট ভারী করছে।’
হাওড় বাঁচাও আন্দোলনের সুরমা ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম বলেন, 'পিআইসি সিন্ডিকেটের নাটের গুরু এখলাছুর রহমান ফরাজী ও পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সায়েম সাফিউল ইসলাম। ওরা দু’জন পিআইসির নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা হরিলুটের পাঁয়তারা করছেন। বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় নিম্নমানের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।’
১ নম্বর পিআইসি সভাপতি এখলাছ ফরাজী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমার আত্মীয়স্বজন দেখে নয়, পিআইসি গঠন করা হয় কৃষক দেখে। হাওড়ে সবার জমি আছে। বাঁধের কাজ শেষ। এখন ঘাস লাগানোর কাজ চলছে।'
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েম সাফিউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'যারা পিআইসি পায়নি তাঁরাই ভুয়া ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পিআইসি সভাপতি দেবাংশু কুমার সিংহ বলেন, 'কৃষকদের নিয়ে গণশুনানির মাধ্যমে হাওড়ে যাদের জমি আছে তাদেরকে নিয়েই পিআইসি গঠিত হয়েছে। কারো আত্মীয়স্বজন দেখে পিআইসি দেওয়া হয়নি। বাঁধের কাজের সময়সীমা ২০ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু অনেক জায়গায় স্থানীয়রা মাটি না দেওয়ায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে আমরা মাটির ব্যবস্থা করছি, যে কারণে বাঁধ নির্মাণ করতে সময় বেশি লাগছে।'
সিলেটভিউ২৪ডটকম / তাজুল / ডি.আর




