সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিল নিয়ে কয়েক মাস ধরেই চলছিল হিসেব নিকেশ। কাউন্সিলে ভোটের হিসেবে কারা করছেন বাজিমাত! পুরনো নেতৃত্বেই কী আস্থা রাখছেন তৃণমূলের নেতারা, নাকি এবার নতুনদের ছেড়ে দিতে হচ্ছে আসন- এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছিল আলোচনা। সেই আলোচনার ঢেউ বিএনপির দলীয় গন্ডি ছাড়িয়ে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনকে আন্দোলিত করছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চমক দেখিয়েছেন নতুনরাই। নিজেদের ‘কারিশমা’ দিয়ে তারা পুরনো নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে জয় করে নিয়েছেন দলের নেতৃত্ব। কাউন্সিলে ভোটযুদ্ধে বিজয়ীরা সকল বিভেদ ভুলে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
চমক দেখিয়ে সভাপতি পদে যুবদলের সাবেক কেন্দ্রিয় সহ সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা বিএনপির সদস্য শামীম আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন সদ্য সাবেক কমিটির নেতারা।
সিলেট জেলা বিএনপির বহুল কাক্সিক্ষত দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী ছিলেন ৯ নেতা। কাউন্সিলে ভোটগ্রহণ শেষে রাতে ঘোষনা করা হয় ফলাফল। ফলাফল ঘোষনার আগ পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সদ্য সাবেক কমিটির নেতারাই বহাল থাকছেন কি-না এটাই ছিল উত্তেজনার মূল কারণ। ফলাফল ঘোষণার সময় দেখা যায়, পুরনো নয়, নতুনের প্রতিই আস্থা রেখেছেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। জেলার আওতাধীন ১৮টি ইউনিটের ১৮১৮ কাউন্সিলরের নির্বাচনে সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি হেভিওয়েট প্রার্থী আবুল কাহের চৌধুরী শামীমকে পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রিয় সহ সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। তাঁর বিজয় ছিল সবচেয়ে বেশি চমকজাগানিয়া। সিলেট জেলা বিএনপির রাজনীতিতে অনেকটা নবাগত কাইয়ূম চৌধুরী। কাউন্সিলের আগে গঠিত আহŸায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে তার অভিষেক। অভিষেক থেকেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সভাপতি।
স্বল্প সময়ে তৃণমূলের আস্থা অর্জন প্রসঙ্গে কাইয়ুম চৌধুরী জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে তিনি দলীয় কার্যালয় স্থাপন, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দিয়ে ডাটাবেইস ও ওয়েবসাইট তৈরি এবং রাজনৈতিক মামলায় জর্জরিত অস্বচ্ছল নেতাকর্মীদের আইনী সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি সেল গঠনের প্রতিশ্রæতি দেন। পাশাপাশি ইলিয়াস আলীকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়ার দাবিতে জোরালো কর্মসূচি ও সিলেটের উন্নয়নে সাইফুর রহমানের অবদানের কথা সাধারণ মানুষের কাছে পুণরায় পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার কথা দেন তিনি। কাইয়ূম বলেন, তার এই প্রতিশ্রæতিতে নেতাকর্মীরা মনে করেছেন তাকে দিয়েই দলীয় কার্যক্রম গতিশীল, আধুনিকায়ন ও দলকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যাবে। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের নেতৃত্বে তাকে যোগ্য মনে করায় দলী নেতাকর্মীরা তার প্রতি আস্থা রেখেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে সবাইকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসাই হবে তার প্রথম ও প্রধান কাজ- এমনটা জানান কাইয়ূম চৌধুরী।
সাধারণ সম্পাদক পদে সদ্য সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। নিজের বিজয় প্রসঙ্গে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপি পর্যন্ত দলের সকল দু:সময়ে তিনি রাজপথে ছিলেন। নেতাকর্মীরা সবসময় তাকে পাশে পেয়েছে। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনেকরেছে তাকে নির্বাচিত করলে তাদের সহযাত্রী হিসেবেই কাছে পাবে। এজন্য তৃণমূলের আস্থা তার পক্ষেই ছিল। এখন ইলিয়াস আলীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়া এবং খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনই তার কাছে মূখ্য বলে জানান এমরান। তবে এজন্য সবার আগে দলের মধ্যকার বিভেদ মুছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




